নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১৮ জানুয়ারি ২০২২

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন

খেলার শুরুতেই চমক

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২২:৫০, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১

খেলার শুরুতেই চমক

কথায় বলে রাজনীতিতে ‘শেষ কথা বলে কিছু নেই’। দুই হাজার এগার সালের ত্রিশ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন করেন এস এম আকরাম। সকল রক্ষ চক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি গঠন করেন নাগরিক সমাজ। ওই ব্যানারে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশিষ্টজনদের সম্পৃক্ত করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এবং আইভীকে বিজয়ী করে একদিনের মাথায় নাটকীয়ভাবে জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এরপর জল অনেক দুর গড়িয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচন করলেও আইভীর কাছ থেকে যথাযথ মূল্যায়ন পাননি এস এম আকরাম। 


এদিকে একই সময়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনও আকরামের সুরে কথা বলেছেন এবং আইভীর নির্বাচন করেছেন। কিন্তু তিনিও নির্বাচনের এক বছরের মাথায় চাপা কস্ট নিয়ে আইভীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন । আইভীর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন আনোয়ার হোসেন। করেন বিষদাগার। শুধু তাই নয়, তিনি মিশে যান ওসমান শিবিরে। এবং ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপ-নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে সেলিম ওসমান বিজয়ী হন। প্রতিদান হিসেবে ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে মাঠেন নামেন শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান। ২৭টি ওয়ার্ডে ব্যাপক শোডাউন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌছে দেন আনোয়ার হোসেনকে। কিন্তু নাসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সমর্থন পায় সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে নাটকীয়ভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারের বসেন আনোয়ার হোসেন। পরিষদের চেয়ারের বসার পর পাল্টে যান তিনি। মুখ ফিরিয়ে নেন ওসমান শিবির থেকে।


এদিকে আসন্ন সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় সমর্থন পেয়েছেন আইভী। ফলে দীর্ঘদিন আইভী বিমুখ আনোয়ার হোসেন আবার ফিরে গেছেন আইভীর কাছে। চাচা-ভাতিজির সম্পর্কে বরপ গলে। বিষয়টি আইভী সমর্থিত নেতাকর্মীরা অত্যন্ত পজেটিভভাবে নিয়েছে। এবং তারা উৎফুল্ল।


ওদিকে নানা নাটকীয়তার পর নাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক তৈমূর আলম খন্দকার। যদিও মনোনয়ন পত্র কিনেছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা মনোনয়ন পত্র জমা দেননি। তবে তৈমূর আলম প্রার্থী হলেও বিষয়টি গুরুত্বহীন মনে করছেন আইভী সমর্থিত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, আইভী শুধু আওয়ামীলীগের ভোট নয়, বিএনপির ভোটও পাবে। আর তৈমূর আওয়ামীলীগের ভোট তো দুরের কথা বিএনপির অনেক ভোট পাবেন না। তাছাড়া বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে যাবে না সেহেতু তৈমূর আলম বিএনপির কোন সমর্থন পাবেন না। আবার আইভীর ঘনিষ্ঠজনরা প্রচার করছেন আইভী নগরবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো যোগ্য প্রার্থী নাই। কিন্তু তাদের হিসেব-নিকেশে গড়মিল শুরু হয়ে গেছে রোববারের (১৯ ডিসেম্বর) একটি দৃশ্যপটের মাধ্যমে। কদমরসুল দরগায় তৈমূর আলম খন্দকারের সাথে সেই পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক এস এম আকরামকে দেখে যেন বৈদ্যুতিক শর্ট লেগেছে আইভী শিবিরে। মুহুর্তেই নগরীর সর্বত্র আলোচনা শুরু হয় আকরামকে নিয়ে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে নিয়েছে রাজনৈতিক সচেতন মহল। তারা বলছেন,আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হতেই এস এম আকরামকে সাথে নিয়ে কদমরসূল দরগাহ জিয়ারত করে তৈমূর আলম খন্দকার সিটি নির্বাচনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। যাকে বলে খেলার শুরুতেই ‘চমক’। তবে তৈমূর আলমের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন ধীরে ধীরে আরও অনেক চমক দেখতে পাবে নগরবাসী। আর তাই যদি হয়, তাহলে শুধু বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ভোট পাবেন তৈমূর। ফলে লড়াইটা এবার জমবে।

আরও পড়ুন :কদমরসুল দরগায় তৈমূরের সাথে আকরাম, জনতার ঢল


প্রঙ্গত : ১৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের এমপি ছিলেন এস এম আকরাম। পরে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক হন। ২০১১ সালে নাসিক নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। নির্বাচনে আইভীর বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ ছেড়ে নাগরিক ঐক্যে যোগ দেন এস এম আকরাম। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।