নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১৮ জানুয়ারি ২০২২

নাসিক ১নং ওয়ার্ডে ফারুকের উপর ক্ষুব্ধ বাড়ি মালিকরা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২১:১০, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

নাসিক ১নং ওয়ার্ডে ফারুকের উপর ক্ষুব্ধ বাড়ি মালিকরা

ফারুক ও তার সহযোগি নেছার উদ্দিন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জে ১নং ওয়ার্ডে বেশির ভাগ লোকজনই দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আগত। কেউ গ্রামের জায়গা বিক্রি করে, কেউবা আয়ের জমানো টাকা দিয়ে জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করে। যাদের তেমন সামর্থ্য নেই তারা ছোট ছোট সমিতি গড়ে বিল্ডিং তৈরি করে। পরে লটারির মাধ্যমে ফ্লাট ভাগ করে নেয়। এ জন্য বাসিন্দারা বাড়ি করার সময় পড়ে চাঁদাবাজদের খপ্পরে। তাদের বাধ্য করা হয় নাসিক ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফারুকের কাছ থেকে ইট, বালু, রড ও পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রী উচ্চমূল্যে ক্রয় করতে। এছাড়া ফারুকের বিরুদ্ধে চিটাগাংরোডের ফুটপাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। নানা অপকর্মের হোতা ফারুককে এবার ভিন্ন চিন্তা এই ওয়ার্ডের ভোটারদের। ফারুকের নানা অপকের্মর কারণে  পরিবর্তনের বাতাস বইতে শুরু করেছে।

কাউন্সিলর ওমর ফারুক ও তার সহযোগী নেছার উদ্দীন চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাড়ি ওয়ালা ও ব্যবসায়ীরা। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এসব কাজ করে চলেছে ফারুক। তবে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়না বিধায় এসব অপকর্ম চাপা থেকে যায়। তার নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজীর জন্য অনেকেই এলাকায় বাড়ী করতে পারছেন না বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।


তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করতে হলে কাউন্সিলর ফারুকের কাছ থেকে নিতে হবে নির্মাণ সামগ্রী। কাজ শুরু করলে থোক চাঁদা দিতে হয় ১ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা। কোথাও কেউ বাড়ি কাজ শুরু করলে তার সহযোগী নেছার উদ্দীন হাজির হন, কী কী মাল লাগবে তার লিস্ট চাইতে। এতে ভয়ে না করার উপায়ও থাকে না বাড়ির মালিকদের। এরপর নিম্নমানের ইট, বাজার দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে রড ও সিমেন্টসহ যাবতীয় নির্মাণ সামগ্রী কিনতে হয় তাদের কাছ থেকে। এতে বাড়ি নির্মাণের বাজেট বেড়ে যাওয়ার বাড়ি কাজও সম্পূর্ণ করতে পারে না বাড়ির মালিকরা।


তথ্যানুসন্ধ্যান করে আরও জানা যায়, হীরাঝিল মসজিদ গলি এলাকায় সমিতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা আলিফ টাওয়ারের মালিকদের কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা নিয়েছে কাউন্সিলর ফারুক। একই এলাকার হিরাঝিল প্রপার্টিজ টাওয়ারের রাস্তা করার কথা বলে ফ্লাট মালিকদের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেছে। এছাড়া হীরাঝিল এলাকা থেকে একটি ভবন নির্মানের সময় ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে কাউন্সিলর ফারুককে।


এমনই এক ভুক্তভোগী আবুল হোসেন অনেকটা কান্না ভরা কন্ঠে বলেন, এ ওয়ার্ডে ফ্ল্যাট কিনে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করলাম। আমার জমানো টাকা আর গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির টাকা দিয়ে সমিতির মাধ্যমে দুইটি ফ্ল্যাট কিনে ছিলাম। কিন্তু কাউন্সিলর ও তার লোকজন বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়। পরে তার অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এলাকায় বাড়ি করলে তার কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী কিনতে হবে। এতে আমরা রাজী হই কিন্তু তার দেয়া রেট বাজার মূল্য থেকে অনেক বেশি। বাধ্য হয়ে তার কাছ থেকেই মাল কিনি কিন্তু এতে আমাদের ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। আল্লাহ তার বিচার করুক বলেই তিনি কেঁদে দেন।


করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে লুটপাটে মেতে উঠেন কাউন্সিলর ফারুক। 
সূত্র জানিয়েছে, গত বছর করোনা কালীন সময়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে লাখ লাখ টাকা আদায় করে দান করেছেন কাউন্সিলর ফারুক। এ বিষয়ে ফাইভ স্টার টেইলার্স এর মালিক হারুন অর রশিদ বলেন, করোনা কালীন সময়ে আমার ব্যবসা খুবই মন্দা যাচ্ছিল। এছাড়া দীর্ঘদিন দোকান বন্ধও রাখতে হয়েছিলো। কিন্তু এর মধ্যেই ফারুক সাহেব আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে বসে। উপায় না পেয়ে তাকে বুঝিয়ে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দেই। তিনি আরও বলেন, আমি সমিতির মাধ্যমে ১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি তুলি সেখান থেকেও কাউন্সিলরকে মাসে ১ লক্ষ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। 


পাইনাদী এলাকার একটি বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করলে কাউন্সিলর ফারুকের লোকজন গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে এ নির্মানধীন ভবনের মালিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে কাজ শুরু করে।


এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ পাইনাদি এলাকায় ৪ কাঠা জায়গার মালিক বাড়ি কাজ করতে হলে কাউন্সিলর ওমর ফারুককে ১০ লাখ টাকা দিতে হয়। একই সাথে বাড়ি নির্মাণের মালামাল রড সিমেন্ট বালুসহ বিভিন্ন জিনিস তার কাছে কিনতে বাধ্য করে ফারুক। কোন ব্যক্তি নিজের ইচ্ছা মত বাড়ি করতে পারে না। অন্যথায় তিনি বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। 


এ ব্যাপারে কাউন্সিলর ফারুক সাংবাদিকদের জানায়, নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে। আমি এগুলোর তোয়াক্কা করি না। নির্বাচনে আমি বিজয়ী হবো।