নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

১৯ জুন ২০২১

আমি দুই জায়গায়ই সার্থক

প্রকাশিত:১৫:০২, ২৫ এপ্রিল ২০২১

আমি দুই জায়গায়ই সার্থক

বরেণ্য অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী সদ্য প্রয়াত। কিন্তু তার অসংখ্যক স্মৃতি রয়ে গেছে। রয়ে গেছে না বলা অনেক কথা। যা তার জীবনদশায় প্রকাশ হয়নি। আজ প্রকাশিত হলো-‘কবরীর না বলা কথা’ পর্ব-৪। “আমি দুই জায়গায়ই সার্থক”। লিখেছেন সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন রবিন।

অতীত ও বর্তমান সংগ্রামের তুলনা করতে গিয়ে কবরী সারোয়ার বলেন, দেশের জন্য লড়াই করতে পেরেছিলাম বলে আমি গর্ববোধ করি। এছাড়া আমার দুই ছোট্ট শিশুও সে সময় আমার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। এটাই আমার সবচেয়ে গর্ব ও সার্থকতার বিষয়। এখন আমার উপলব্ধি হয় যে, মানুষকে তো মরতেই হবে৷ তাই এমন কিছু করেই মরা ভালো৷ তাই আমার এখন মরতেও দ্বিধা নেই। যা হোক, আজও আমি লড়াই করে যাচ্ছি সুবিধা বঞ্চিত মানুষের অধিকারের জন্য।

 

কবরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি কোন রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। ‘একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে, একজন অভিনেত্রী এবং শিল্পী হিসেবে মানবতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বাবা, মা, ভাই-বোন, সম্পদ, লোভ-লালসা সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে আমি ভাষণ দিয়েছিলাম। এবং জনসম্মুখে কেঁদেছিলাম এজন্য যে, পাকিস্তানি বাহিনী যেভাবে হত্যা-নির্যাতন চালাচ্ছিল আমাদের দেশের মানুষের উপর তাদের হাত থেকে যেন আমার দেশের মানুষ অতি দ্রুত রক্ষা পায়৷ সেজন্য আমি মানুষের কাছে, বিশ্ববাসীর কাছে যে আহ্বান জানিয়েছিলাম তার পরিণতি যে কী হতে পারে তা একবারও আমার মনে আসেনি এবং ভাবার কোন অবকাশও ছিল না৷' বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভারত যে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল সেটা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি।

কবরী বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান সম্বলিত আমার বিখ্যাত ভাষণ ভারতের ‘আকাশবাণী' থেকে মাঝে মাঝেই বাজানো হতো। আমার এই ভাষণ মা-বাবাসহ বাংলাদেশের অনেক মুক্তিকামী মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধারাও শুনেছিলেন বলে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জানতে পারি।

একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কবরী সারোয়ার তার আজীবন সম্মাননার পুরস্কারটি উৎসর্গ করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব মুক্তিযোদ্ধাকে।

কবরী বলেন, একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি যখন মম্বাইতে থাকি। তখন ওখানে ব্লাড ডোনেশনের এজন্য একটা ক্যাম্প করা হয়েছিল। আহত সৈনিকদের জন্য রক্ত লাগবে। সেখানে বাংলাদেশী এবং ভারতীয় সৈনিক ছিল। আমি প্রথম ব্যক্তি। যে রক্ত দিয়ে ব্লাড ডোনেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছি। তখন দেখা গেল আমাদের পাড়ার থেকে সমস্থ মহিলা ঝাপিয়ে পড়লোরক্ত দেয়ার জন্য।

 

চলচ্চিত্রের জীবন নিয়ে কবরী বলেন, চলচ্চিত্র হলো চলমান একটা জিনিস। যেমন যতদিন একটা সুস্থ মানুষের দেহে প্রাণ থাকবে, চোখে দেখবে, কানে শুনবে তার হা-পা কাজ করবে ততদিন চলমান জীবন তার। এই চলমান জীবনে সে কী কোন দিন বাঁধাগ্রস্থ হয়নি? অবশ্যই হয়েছে। সে বিশ্ব বিখ্যাত কবিই হোক, অনেক বড় ধরনের সেলিব্রিটি হোক, আর প্রধানমন্ত্রী হোক। প্রত্যেকের জীবনে কিছু না কিছু আছে। কিছু আমরা জানি, কিছু জানি না। কিছু লুকায়িত কিছু ওপেন। কিছু ক্লোজ ডোরে থাকে কিছু ওপেন হয়ে থাকে। এই দুনিয়াটা কিন্ত এরকম। আমি চলচ্চিত্রে যেমন সফল রাজনীতিতেও সফল। ইলেকশন করেছি এবং বিজীয় হয়েছি। “আমি যদি মরে যাই”।

  আরও পড়ুন :৫০ বছরেও কী আমার পরীক্ষা শেষ হয়নি ?