নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১৬ এপ্রিল ২০২৪

অধরা মাফিয়া গ্রুপের লিডার তাহসিন ইসলাম সীমন ও তার সহযোগীরা

সিদ্ধিরগঞ্জে টেনশন গ্রুপ ও ডেভিল এক্সো গ্রুপের ১৭ সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৭:২১, ২৫ মার্চ ২০২৪

সিদ্ধিরগঞ্জে টেনশন গ্রুপ ও ডেভিল এক্সো গ্রুপের ১৭ সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে টেনশন গ্রুপ ও ডেভিল এক্সো গ্রুপের ১৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার র‌্যাব-১১।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলামের বড় ছেলে মিজমিজি এলাকার সক্রিয় কিশোর গ্যাং টেনশন গ্রুপের লিডার রাইসুল ইসলাম সীমান্ত (২২), তারই অপর আরেক ছেলে  ডেবিল এক্সো গ্রুপের লিডার মো. সারিব (১৯)।

সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার মো: তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬), সানারপাড় এলাকার আ: রহমানের ছেলে মোঃ হুমায়ুন হোসেন (২৪),  মিজমিজি নাদা পাড়া এলাকার মো: আমিন উদ্দিনের ছেলে  মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (২৬), নারায়ণগঞ্জের বন্ধরের লাঙ্গলবন্দ এলাকার খোকন শেখের ছেলে মো: রাব্বি (২৫), নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক. সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের ছেলে প্রিতম রোবায়েতি ইসফাক (২৯)।

মিজমিজি এলাকার হারুনের ছেলে মোঃ আশিক (১৯), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ নাঈম (১৯), আজাদ শিকদারের ছেলে মোঃ তুহিন হোসেন (১৮), খন্দকার মোহাম্মদ নুরুল্লাহর ছেলে রোসমান (১৯), বাক্কির ছেলে মোঃ শাহাদৎ (১৯), তাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ সৌরভ (২০), নুর নবীর ছেলে মোঃ মাহিন (২০), ইমান আলীর ছেলে মোঃ তুষার (২০), নবীর হোসেনের ছেলে মোঃ সৌরভ (১৯), আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ আরিফ (১৯)।

সোমবার (২৫ মার্চ) দুপুরে র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর সানরিয়া চৌধুরী। এর আগে রোববার (২৪ মার্চ) দিনগত রাতে মিজমিজি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার দুই ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার গ্রেপ্তার হলেও অধরা রয়ে গেছে তার আরেক ছেলে মাফিয়া গ্রুপের লিডার তাহসিন ইসলাম সীমন ও তার সহযোগীরা। 

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, গত বছরের ৩১ আগস্ট, ৫ এবং ৬ সেপ্টেম্বর নাসিক এলাকায় মধ্যরাতে পরিচিত গ্যাং টেনশন গ্রুপের নেতা সীমান্ত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এছাড়াও তাদের সক্রিয় এলাকায় উঠতি বয়সি ছাত্রদের টার্গেট করে মাদকদ্রব্য সেবনে প্ররোচিত করে তাদের গ্রুপে যোগদান করিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। 

গ্রেপ্তারকৃত "টেনশন গ্রুল্প" এবং "ডেভিল এক্সো" গ্রুপের আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, রাইসুল ইসলাম সীমান্ত "টেনশন গ্রুপ" এর দলনেতা এবং মোঃ সারিব "ডেভিল এক্সো গ্রুপ" এর দলনেতা। গ্রেফতারকৃত আসামিরা রাস্তায় চলাচলরত জনগণের মালামাল ছিনতাই, বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মালবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহণে নিয়মিতভাবে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে থাকে।

আসামিরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে শক্তির মহড়া বা দাপট প্রদর্শন করে জনমনে ভয়ভীতি বা ত্রাস সৃষ্টি করে। এলাকাবাসী তাদের হিংস্রতা, অত্যাচার ও নির্যাতনের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

র‌্যাব আরও জানায়, "টেনশন গ্রুপ" এর দলনেতা রাইসুল ইসলাম সীমান্ত (২২) এবং সদস্য মোঃ প্রিতম রোবায়েতি ইসফাক (২৯) ও "ডেভিল এক্সো" গ্রুপ এর সদস্য মোঃ আশিক (১৯) এবং মোঃ নাঈম (১৯) বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা, ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এদিকে “টেনশন গ্রুপ" এবং "ডেভিল এক্সো গ্রুপ” প্রুপের ১৭ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় নেমে আসে স্বস্তি। 

স্থানীয়রা বলছেন, বাবা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার শেন্টারে ওই দুই ছেলেই নয় তার আরও এক ছেলে তাহসিন ইসলাম সীমনের নেতৃত্বে 'মাফিয়া গ্রুপ' নামে আরও একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ এলাকায় ত্রস সৃষ্টি করে থাকে।

সীমনের নেতৃত্বে মাফিয়া গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে অন্যতম হলো সিমনের অন্যতম সহযোগী ও আলমগীরের ছেলে বিজয়, ইরফাদ, আল-আমীন, শাওন, জয়, রাকিব, জীবন, খাইরুল, সাব্বির ও ফাহিম। 

তিন ভাইয়ের নেতৃত্বে গড়ে উঠা টেনশন, মাফিয়া ও ডাবল এক্সও নামে তিনটি “কিশোর গ্যাং” গ্রুপ ইভটিজিং থেকে শুরু করে মাদক বিক্রি, মাদক সেবন, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকে। এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের ছেলেদের এই তিন 'কিশোর গ্যাং' গ্রুপের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলতে পারে না সাধারণ মানুষ। 

এলাকার সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পান। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়াচ্ছে। এতে সব সময় স্থানীয়রা আতঙ্কে থাকে এই তিন গ্রুপের সদস্যরা কখন কাকে ধরে মারবে সেই ভয়ে। এদের কিছুই বলা যায় না। এরা মামলার আসামি হয়েও এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়ায়।

এলাকাবাসির অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় এসব অপর্কম হলেও অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে এসব কিশোরেরা। এর কারণ হিসেবে দেখা যায় রাজনৈতিক ছত্রছায়া, এলাকার কথিত বড় ভাইদের অনুচর হিসেবে সক্রিয় থাকছে এসব উঠতি বয়সি বিপদে যাওয়া তরুণরা।

তাদের দাবি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার আরেক ছেলে মাফিয়া গ্রুপের লীডার তাহসিন ইসলাম সীমন ও তার সহযোগীগের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসলে পুরো এলাকায় শান্তি শৃংখলা বিরাজ করবে। বিশেষ করে এলাকাবাসী পরিবার পরিজন নিয়ে নিশ্চিন্তে রোজা ও  ঈদুল ফিতর পালন করতে পারবেন।