নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় ৭ বছরের শিশু আমেনাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ওবায়দুল হকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার লাধুরচর-গোবিন্দপুর এলাকায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযুক্ত ওবায়দুল হকের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে শিশুটির মামা শরিফ বলেন, ৭ বছরের শিশু আমেনাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমেনাকে চিপস খাওয়ানোর কথা বলে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা খাদিজা বাদী হয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত ওবায়দুল হকের বাড়িসহ কয়েকটি স্থানে সোনারগাঁ থানা পুলিশ অভিযান চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় অভিযুক্তের ছেলে সুজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। পরে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শরিফ সোনারগাঁয়ের তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে একটি লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে সুজনকে ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ওবায়দুল হককে থানায় হাজির করার বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে থানায় হাজির করা হয়নি এবং ওবায়দুল হক ও তার ছেলে সুজনের অবস্থান সম্পর্কেও স্থানীয়রা নিশ্চিত তথ্য পাননি। তাদের বিরুদ্ধে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, অভিযুক্তের ছেলে সুজনকে ছাড়িয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে অভিযুক্তদের এলাকা ছাড়ার ঘটনায় শরিফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে এলাকার জনসাধারণ মানববন্ধনে অংশ নেয়নি বলেও দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শিশুটির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কোনো ধরনের প্রভাব, চাপ বা আপসের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আবদুল বারিক বলেন, ধর্ষনের চেষ্টার বিষয়ে থানায় অভিযোগ হয়েছে, অভিযোগের পরবর্তী সময় থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষ প্রথমে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিল, মীমাংসা না হওয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে তারা থানার অভিযোগ করে। অভিযুক্ত ওবায়দুল হককে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের দুটি টিম কাজ করছে। দ্রুত সময়ের ভিতরে তাকে গ্রেফতার করা হবে।


































