নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে মাসুম (৩৮) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে নিতাইগঞ্জের
ডাইলপট্টি পুরাতন বি.কে. রোড এলাকার ওই ভবন থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. আরিফুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বইরকাঠি এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়ায় বসবাস করতেন এবং পাশ্ববর্তী জামাল শপিং বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফুল চাকরির সুবাদে গত ৭ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী নিপা খানম, মেয়ে সুমাইয়া ও ছেলে আদিব হাওলাদারকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে তিনি কর্মস্থলে যান। রাতে মধ্যে দু-একবার বাড়িতে এসে আবার কাজে ফিরে যান। পরদিন দুপুরে তার স্ত্রী ছাদে কাপড় শুকাতে গেলে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠায়।
নিহতের স্ত্রী নিপা খানম জানান, আরিফুল ইসলাম মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে গত চার মাস ধরে পারিবারিক কলহের জেরে মনোমালিন্য চলছিল। তিনি আমার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতেন না। গতকাল রাতে দু-একবার আসলেও কথা বলেননি। আমিও কিছু জিজ্ঞাসা করিনি।
এদিকে নিহতের মা রুমা বেগমের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে নিপা খানম তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আমার কাছে চলে আসছিল। পরে কেমন করে আমার ছেলেকে আবার নিয়ে গেছে। ফোনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বাবা যাইবা না? সে বলেছিল, কাজটা শেষ করে যাব। আমাকে হুমকি দিয়েছিল। বলেছিল, ‘আমি (নিপা) বললে মারব। পরে আমার ওপর দোষ দিতে পারবা না।’ আমি বলেছিলাম, আমার ছেলেকে যদি পুলিশে দাও, দাও। তুমি যদি তোমার স্বামীকে শেষ করে শান্তি পাও, তাহলে করো।”
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি মরদেহ টিভি কেবলের তারে ঝুলছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্তারিত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।