নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০৮ নভেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে এনসিপির ফাঁদে পা দেয়নি শ্রমিকরা

নারায়ণগঞ্জে এনসিপির ফাঁদে পা দেয়নি শ্রমিকরা

নুন্যতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্পে একধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিলো। এমন পরিস্থিতিকে দীর্ঘ করতে মাঠেও নেমেছিলো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতারা। তবে তাদের ফাঁদে পা দেয়নি শ্রমিকরা। তারা ফিরেছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে। দলটির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এড. আব্দুল্লাহ আল আমিনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন নিয়ে পোস্টও করেছেন। তবে আন্দোলনের সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানানো জরুরি হলেও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ও সমন্বিত ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত সপ্তাহের সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন চলে। প্রথম দিন বড় ধরনের সহিংসতা না ঘটলেও মঙ্গলবার ও বুধবার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে শ্রমিক-পুলিশ উভয় পক্ষের অনেকে আহত হন। দুই দিনের সংঘাতের ঘটনায় পুলিশ বাদী দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে । একটি মামলায় দেড় হাজার এবং অপর মামলায় ৩৪২ জনকে আসামি করা হয়। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এই আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে যান এনসিপির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি যুবাইর সরদার, মহানগর সভাপতি শওকত আলীসহ দলের স্থানীয় নেতারা। সেখানে তারা গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেন সেইসাথে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আন্দোলনে দৃঢ় থাকার আহ্বানও জানান। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন থাকলেও আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নেতাদের এ ধরনের উপস্থিতি কতটা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য শ্রমিকদের দাবিকে আলোচনার দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি কতটা বাড়বে, তা প্রকৃত শ্রমিক ও শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত নির্ধারণ করা সরকারের দায়িত্ব। শ্রমিকেরা যাতে বঞ্চিত না হন, আবার শিল্পমালিকেরাও যাতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন, এমন সমন্বিত সিদ্ধান্ত চান তারা। সংসদ সদস্যের বক্তব্যে শ্রমিকদের দাবি, সরকারের ভূমিকা ও আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উঠে আসে। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন কিংবা দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষ দূর করা সম্ভব নয়। সরকারের দায়িত্বশীল বক্তব্য ও স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। আন্দোলনে শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা এবং গায়েবানা জানাজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তবে আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন ও অংশগ্রহণ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহ আল-আমিন। তার বক্তব্য, আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে প্রকৃত শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি অস্বীকার করা যাবে না। সারা বছর আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আন্দোলনের সময় তাদের ইন্ধনের কথা বললে তা গ্রহণযোগ্য হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিকেএমইএর সভাপতি মো. হাতেমের অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন সংসদ সদস্য। তার অভিযোগ, হাতেম আওয়ামী লীগ ও ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ। এমন একজনকে শিল্পমালিকদের সংগঠনের নেতৃত্বে রেখে আওয়ামী লীগের ইন্ধন ঠেকানোর কথা বলা রাজনৈতিকভাবে অসংগত। আব্দুল্লাহ আল-আমিনের দাবি, হাতেমের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন কমতে পারে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির স্থানীয় নেতাদেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা ও চাঁদার ভাগ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা হাতেমের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন এবং তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামান। তার ভাষায়, দল দুটির ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে ‘প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক’ মনে হয়েছে। সংকটের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সমন্বিত বক্তব্য ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। মাসুদুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন প্রতিহত করার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন ছিল। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে অসন্তোষ এবং শিল্পমালিকদের ব্যবসা পরিচালনার সংকট—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল। তিন দিনের আন্দোলনে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি সামনে এলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনসিপির নেতাদের মাঠে উপস্থিতি ও সংসদ সদস্যের বক্তব্য শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন রয়ে গেছে। ফলে আন্দোলনের মাঠে নেতাদের উপস্থিতি, সংসদ সদস্যের ফেসবুক পোস্ট ও রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক। ব্যবসায়ীদের মতে, সংকটের সময় দলটির ভূমিকা ছিল হতাশাজনক।

Advertising
Advertising
Advertising
  • কারাবন্দি সিদ্ধিরগঞ্জের সজীবের মৃত্যু

  • নারায়ণগঞ্জে ৫৬৫ চাঁদাবাজের তালিকা এসআরবির হাতে

  • লিংক রোডে বস্তাবন্দি হাত-পা বাঁধা কিশোরীর লাশ উদ্ধার

  • ফতুল্লায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ

  • বন্দরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

  • সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত

  • বক্তাবলীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি নেতার পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

  • সিদ্ধিরগঞ্জে বেপরোয়া জাকিরের অপকর্মে বাড়ছে আতঙ্ক

  • ফতুল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩০টি ঝুটের গোডাউন পুড়ে ছাই

  • নারায়ণগঞ্জে আলোচনায় ৯৭৩ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী

  • Advertising
    Advertising
    Advertising
    Advertising
    Advertising
    Advertising
    Advertising
    Advertising