বইপ্রেমীদের সংগঠন ‘বইপোকা নারায়ণগঞ্জ’ আগামী ১৫ জুন তাদের নিয়মিত জুন মাসের পাঠচক্র আয়োজন করতে যাচ্ছে। সাহিত্যচর্চা, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং পাঠকদের মধ্যে চিন্তা ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ পাঠচক্রে আলোচনার বিষয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাহিত্যিক আল মাহমুদ-এর আত্মজীবনী ও গল্পগ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের কালিরবাজার এলাকায় এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংগঠনের সদস্য, সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষার্থী, তরুণ পাঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।
বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে আল মাহমুদ একটি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর সাহিত্যকর্ম, জীবনদর্শন এবং সৃষ্টিশীলতার বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাঠকসমাজে আলোচনা হয়ে আসছে। এবারের পাঠচক্রে তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা ও গল্পে উঠে আসা সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সময়ের বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশেষভাবে ‘পানকৌড়ির রক্ত’ গ্রন্থের বিষয়বস্তু, ভাষাশৈলী, চরিত্রচিত্রণ এবং লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতামত ও মূল্যায়ন তুলে ধরবেন। পাশাপাশি গ্রন্থটির সাহিত্যিক গুরুত্ব ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
বইপোকা নারায়ণগঞ্জের আয়োজকরা জানান, পাঠচক্র কেবল একটি বইকে কেন্দ্র করে আলোচনা নয়; এটি পাঠকদের মধ্যে চিন্তার আদান-প্রদান, নতুন দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ এবং সাহিত্যবোধ সমৃদ্ধ করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন পাঠক তৈরির পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
তারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে বই পড়ার অভ্যাস ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় পাঠচক্রের মতো আয়োজন মানুষের মধ্যে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে পাঠচক্রকে ঘিরে স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আলোচনা, মতবিনিময় এবং বইকেন্দ্রিক আড্ডার মধ্য দিয়ে এ আয়োজন একটি প্রাণবন্ত সাহিত্যিক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
বইপোকা নারায়ণগঞ্জ সকল বইপ্রেমী, পাঠক, সাহিত্য অনুরাগী ও সংস্কৃতিকর্মীদের পাঠচক্রে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা আশা করছেন, বইকে কেন্দ্র করে জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতার এই মিলনমেলা সফল ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।


































