নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০৫ জুলাই ২০২৬

আড়াইহাজারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে চিকিৎসককে পেটালেন বিএনপি নেতা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২২:১৮, ৫ জুলাই ২০২৬

আড়াইহাজারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে চিকিৎসককে পেটালেন বিএনপি নেতা

রোগীর চিকিৎসায় গাফলতির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে এক চিকিৎসককে পিটিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতির ভাই বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন। বিল্লাল হোসেন আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছোট ভাই।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে ৫ জুলাই রবিবার জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক করা হয়।

 

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

 

রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমের পেটব্যথার চিকিৎসার জন্য সকালে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) আব্দুল্লাহ আল কামাল তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে একটি ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন। বিল্লাল হোসেন ইনজেকশনটি কিনে এনে তা দ্রুত পুশ করার অনুরোধ করেন। তবে ওই সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অন্য দুজন রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন আব্দুল্লাহ আল কামাল। এ নিয়ে বিল্লাল ও চিকিৎসকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

 

হাসপাতাল কর্তপক্ষ অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আব্দুল্লাহ আল কামালের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তিনি দৌড়ে হলরুমে আশ্রয় নিলে, সেখান থেকেও তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আব্দুল্লাহ আল কামালের স্ত্রী (যিনি একই হাসপাতালে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত) মনোয়ারা বেগম এগিয়ে এলে, স্বামীসহ তাকেও আটকে রাখা হয়। পরে সহকর্মী চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা আব্দুল্লাহ আল কামালকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

 

খবর পেয়ে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্যাকমো আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেয়া হয়।

 

আহত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমি জরুরি বিভাগে অন্য একজন গুরুতর আহত রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। এ সময় বিল্লাল হোসেনকে কিছুটা অপেক্ষা করতে বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে এসে আমার ওপর হামলা চালান। হামলায় আমার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে ধারণা করছি।’

 

এ দিকে হামলার ঘটনায় পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীরা ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন চিকিৎসকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে দুপুর ১টার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসাসেবা পুনরায় স্বাভাবিক হয়। চিকিৎসকদের সাময়িক কর্মবিরতির কারণে বহির্বিভাগে আসা সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিল্লালের বড় ভাই আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট চিকিৎসা না দিয়ে তর্কে জড়ান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকেরা এখন নানা নাটক সাজিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমার ভাইয়ের স্ত্রী এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো সমস্যা হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারত। কিন্তু এভাবে মব সৃষ্টি করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে এবং তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।’

 

তবে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, এ ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।