নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবু তাহের জিহাদী, ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকনসহ কয়েকজনকে মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা মাদ্রাসায় প্রবেশ করলে মুফতি হারুন অর রশিদের সমর্থক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহ আব্দুল হালিম বলেন, মুফতি হারুন অর রশিদকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তার অনুসারীরা শিক্ষার্থীদের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। একপর্যায়ে প্রিন্সিপাল, সাধারণ সম্পাদকসহ ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যকে মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা পৌঁছায়। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্র শিবিরের একটি কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জনের জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষকে সমর্থন ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
মুফতি হারুন অর রশিদ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, “চাকরিচ্যুত একজন শিক্ষক ও ইমামকে পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কয়েকজনকে মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


































