নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

০৪ জুলাই ২০২৬

বৈষম্যমুক্ত মানবিক ফোরামের উদ্যোগে

‘নদী বাঁচলে বাঁচবে জনপদ, শীতলক্ষ্যা বাঁচাও’ শীর্ষক আলোচনা সভা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১১:১৬, ৪ জুলাই ২০২৬

‘নদী বাঁচলে বাঁচবে জনপদ, শীতলক্ষ্যা বাঁচাও’ শীর্ষক আলোচনা সভা

শীতলক্ষ্যা নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জে ‘নদী বাঁচলে বাঁচবে জনপদ, শীতলক্ষ্যা বাঁচাও’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বাদ মাগরিবে নারায়ণগঞ্জের গোগনগর পূর্ব মশিনাবন্ধ এলাকায় বৈষম্যমুক্ত মানবিক ফোরাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে তরুণ ছাত্রসমাজ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, কবি-সাহিত্যিক, সমাজসেবক, প্রবীণ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জসীমউদ্দীন। সঞ্চালনা করেন মো. জহিরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. মকবুল হোসেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রবিউস সানি টুটুল।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মো. মামুন হোসেন। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মো. সাইফুল হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. হোসেন, মোহাম্মদ রাকিব, মো. ইমরান, মো. মেহেদী, মো. জিসান, মো. রিফাত, মো. আনমুন, জসিম মিয়া ও মো. পমেল। এছাড়াও উপস্থিত আরও অনেকে নদী রক্ষায় করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে জসীমউদ্দীন বলেন, নদী একটি দেশের প্রাণ, সভ্যতার ধারক এবং মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। কিন্তু বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলক্ষ্যা নদী বর্তমানে দূষণ, দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, অবৈধ স্থাপনা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, শীতলক্ষ্যা শুধু একটি নদী নয়; এটি নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জনপদের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদী ধ্বংস হলে জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে। তাই নদী রক্ষায় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিল্পমালিক এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান আলোচক মো. মামুন হোসেন বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর বর্তমান সংকট শুধু পরিবেশগত নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতারও প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবাদী সংগঠন ও গণমাধ্যমকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত উদ্যোগই শীতলক্ষ্যা নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার একমাত্র পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভা শেষে সভাপতি জসীমউদ্দীন সফল ও প্রাণবন্ত এ আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় উপস্থিত অতিথি, সংগঠক ও অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সম্পর্কিত বিষয়: