নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

০৪ জুন ২০২৬

নিজে বাঁচতে কর্মীদের বলির পাঠা বানালেন যুবদল নেতা রনি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২২:০৫, ৪ জুন ২০২৬

নিজে বাঁচতে কর্মীদের বলির পাঠা বানালেন যুবদল নেতা রনি

‎নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের অনুষ্ঠানে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত কথাকাটাকাটির জেরে জেলা বিএনপির আহ্বয়ক কমিটির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূইয়ার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করার ঘটনায় নিজেকে বাঁচাতে তরিঘড়ি করে পদবিহীন চার যুবদল কর্মীকে বহিস্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ জানানো হয়। অথচ হামলার শিকার বিএনপি নেতা উকিল উদ্দিন বলেছেন যুবদল নেতা রনির নির্দেশে তার উপর হামলা চালানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আওতাধীন ফতুল্লা থানার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা, মোঃ মামুন, মোঃ কাউছার, শ্রী নিতাই ও মোঃ দেলোয়ার হোসেন অনৈতিক, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা যুবদলের আহবায়ক মোঃ সাদেকুর রহমান সাদেকের পরামর্শক্রমে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ সকল পদ পদবী থেকে তাদের বহিষ্কার করা হলো। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে গণমাধ্যমে যুবদলের প্যাডে বহিস্কারের এ তথ্য পাঠানো হয়।

তবে যাদেরকে বহিস্কার করা হয়েছে তারা যুবদলের কোন পদে আসীন রয়েছে তা উল্লেখ্য করা হয়নি। একই সাথে নেই জেলা যুবদলের আহবায়ক সাদেকুর রহমান সাদেকের স্বাক্ষর।

 

তবে এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহবায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক কিছুই জানেন না বলে জানান। যাদের কে বহিস্কার করা হয়েছে তাদের কে তিনি চিনেন না বা জনেন না বলে জানান।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতা অকিল ভূইয়া কে মারধর করেছে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা। হামলার সময় রনি ঘটনাস্থলের পাশেই দাড়িয়ে ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

‎বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জিয়াউর রহমান-এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

 

অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে ছবি তোলার সময় রনির সাথে অকিলের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

 

তবে অনুষ্ঠান শেষে ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার পরপরই জেলা পরিষদের প্রাঙ্গণে রনির সমর্থকেরা অকিলের ওপর হামলা চালায় ও তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা এগিয়ে অকিলকে ছাড়িয়ে নেন।

‎হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূইয়া জানান, আমরা অনুষ্ঠানে এক সাথে ছিলাম হঠাৎ মশিউর রহমান রনি আমাকে প্রশ্ন করে ভাই আপনি গত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন। এক কথায় দুই কথায় রনির সাথে আমার তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। পরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ভাই আমাদের দুইজনকে শান্ত করে ঘটনাস্থলে মিলিয়ে দেয়। সেখানি আমাদের ঝামেলা শেষ কিন্তু আমি বের হয়ে জেলা পরিষদ এর সামনে নামাজের জায়গা খুজতে থাকি সে সময় হঠাৎ করেই রনির লোকজন আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

‎এবিষয়ে ‎ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, হামলার ঘটনা আমরা শুনেছি। তবে এই বিষয়ে কেউ এখনও কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

সম্পর্কিত বিষয়: