নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০১ নভেম্বর ২০২৬

বিএনপি

বিএনপি

নারায়ণগঞ্জে খুন, ছিনতাই ও অপহরণে জনমনে উদ্বেগ

নারায়ণগঞ্জে খুন, ছিনতাই ও অপহরণে জনমনে উদ্বেগ

নারায়ণগঞ্জে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি কুপিয়ে হত্যা, সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে গুলি, ব্যক্তিগত বিরোধ ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের হত্যার ঘটনা ঘটছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। এসব ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত ১৮ অক্টোবর রূপগঞ্জে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা রিপন মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর তিনদিনের ব্যবধানে, ২১ অক্টোবর রাতে সোনারগাঁয়ের চিরকিশোরগঞ্জে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ফকিরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে জেলার দুটি উপজেলায় দুই রাজনৈতিক নেতার হত্যাকাণ্ড স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ৮ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এক সপ্তাহে জেলায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই সময়ে আটটি মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ উদ্ধারের এসব ঘটনা জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এরমধ্যে বন্দরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে গত ১২ অক্টোবর। উপজেলার মাহমুদনগর এলাকায় নিহত মাকসুদা বেগমের বয়স ছিল ৭২ বছর। এ সময় তার ছেলে রাসেল ও প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন। এর পরদিন ১৩ অক্টোবর বন্দরের তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে সুফিয়া আক্তার নিশি (২৪) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী আবদুল মান্নান ওরফে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে চাষাড়ায় হকার্স মার্কেটের পেছনে শুভ চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড শহরে আলোচনার জন্ম দেয়। সেইসাথে গত ১৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এলাকায় মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে দিতে গিয়ে সকালে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন দৈনিক শীতলক্ষ্যার সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আরিফ আলম দিপু। এ সময় ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা এবং তার মেয়ের মোবাইল ফোন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীর। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফতুল্লায় ফুল বিক্রি করা ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। মধ্যরাতে শিশুটিকে চানমারী থেকে তুলে নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকার একটি বাসায় নিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটিকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রূপগঞ্জে ১৯ বছর বয়সী এক যুবক ও ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে অপহরণ করে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জে এসব ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিকদল ও নাগরিক সমাজের লোকজনরা। এরমধ্যে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন ও এসব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আশ্বাস নয় দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপের কথাও বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে খুন, চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। ২২ অক্টোবর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির মো. মাসুদুর রহমান গিয়াস ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন আইনের আওতার বাইরে না থাকেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তারা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, জমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পাওনা টাকা কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের মতো কারণ উঠে এসেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে।

০৯:৫৩ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

নারায়ণগঞ্জে জামায়াত এগিয়ে, পিছিয়ে বিএনপি!

নারায়ণগঞ্জে জামায়াত এগিয়ে, পিছিয়ে বিএনপি!

পাঁচ আগস্টের পটপরির্তনের পর নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে এখন প্রধান দুই শক্তি হচ্ছে বিএনিপি ও জামায়াত। দুই দলই সমানতালে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর আলোচনায় স্থানীয় নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগেই আগাম মেয়র প্রার্থী ঘোষণা, ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারণ এবং জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ঠিক করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। সেই দিক থেকে একেবারেই পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। শুধু তাই নয়, বিএনপিতে দলীয় কোন্দল এবং বিভিন্ন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। এতে শুধু সাংগঠনিক প্রস্তুতি নয়, দুই দলের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির প্রশ্নও সামনে আসছে। জামায়াত যখন নিজেদের সংগঠিত ও স্থানীয় নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সক্রিয় হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, তখন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে দলীয় ঐক্য ও ভাবমূর্তি ধরে রাখা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মাওলানা আব্দুল জব্বারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারণ এবং জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। এসব আগাম উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের সক্রিয়তা ভোটারদের কাছে একটি দলের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক সক্ষমতার বার্তা দিতে পারে। জামায়াতের সাম্প্রতিক তৎপরতা সেই সুযোগ করে নিচ্ছে। বিশেষ করে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ যখন আলোচনায়, তখন জামায়াতের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিকভাবে তাদের তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান তুলে ধরতে পারে। তবে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেতৃত্ব রয়েছে। জেলায় ৫ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চার আসনেই বিএনপি জয় লাভ করে কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাদের বিরোধ, দলীয় পদ ও প্রভাব নিয়ে টানাপোড়েন এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ দলটির রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে আলোচনার মধ্যে রাখছে। তবে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে এলে সাধারণ মানুষের কাছে দলটির নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও দলটির ভাবমূর্তির জন্য বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠছে। এসব কেন্দ্র করে ধারাবাহিক বিতর্ক তৈরি হলে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে প্রতিপক্ষের জন্যও তা বিএনপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করে। এ ছাড়া প্রার্থী নির্ধারণের পরেও জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন আসতে পারে। দলটির নেতা-কর্মীরা কতটা জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে পারেন এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তার ওপরও দলটির ভাবমূর্তি নির্ভর করবে। নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুধু প্রার্থী নির্ধারণ কিংবা প্রচার-প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে যুক্ত হবে জন আস্থা, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রশ্ন। জামায়াতের সামনে রয়েছে বর্তমান তৎপরতাকে ভোটারদের সমর্থনে রূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। আর বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে উঠছে অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামলে দলীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ধরে রাখা। সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক চিত্রে জামায়াতকে সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে সক্রিয় এবং বিএনপিকে অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামলাতে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে, তা নির্ভর করবে কোন দল নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব এবং ভোটের সমর্থনে রূপ দিতে পারে তার ওপর।

০৯:২৬ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

আদালতপাড়ায় সাখাওয়াত-আনোয়ারের মধ্যে ফাটল, নেপথ্যে...

আদালতপাড়ায় সাখাওয়াত-আনোয়ারের মধ্যে ফাটল, নেপথ্যে...

নারায়ণগঞ্জের বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমীকরণে ফাটল এখন প্রকাশ্যে। একসময় ঘনিষ্ঠভাবে রাজনীতি করা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এখন মুখোমুখি অবস্থানে। জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই দূরত্ব মঙ্গলবারের (৬ অক্টোবর) হাতাহাতির ঘটনায় প্রকাশ্যে আসে। আর পরদিন বুধবার (৭ অক্টোবর) বার ভবনে দুই পক্ষের আলাদা অবস্থানে সেই বিভক্তির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচতলায় সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুসারী আইনজীবীদের একাংশ আলাদাভাবে টেবিলে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন এবং বার ভবনের মূলফটকে সাখাওয়াতের অনুসারীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতেও দেখা যায়। একই সময়ে অপর পাশে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের অনুসারী ও তাদের সঙ্গে থাকা আইনজীবীরাও আলাদা টেবিলে বসে নিজেদের অবস্থান জানান দেন। একদিন আগেও যে বার ভবনে দুই পক্ষের আইনজীবীরা মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন, পরদিন সেখানে তাদের এভাবে পৃথকভাবে অবস্থান নিতে দেখা যাওয়ায় আদালতপাড়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনজীবীদের অনেকে বলছেন, মঙ্গলবারের ঘটনা ছিল দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রকাশ্য বহিঃপ্রকাশ। আর বুধবারের পৃথক অবস্থান সেই বিভক্তিকে আরও দৃশ্যমান করেছে। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সাখাওয়াত ও আনোয়ারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সমিতিতে নেতৃত্ব, প্যানেল গঠন এবং বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দুই ধরনের অবস্থান তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আইনজীবী ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুই পক্ষের আইনজীবীরা উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার সময় সাখাওয়াত হোসেন খান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধানের পক্ষের আইনজীবীরাও সেখানে ছিলেন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার পর দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির আহত হন। একই ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন খানকে হেনস্তা করার অভিযোগও ওঠে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ভাষ্য, মঙ্গলবারের ঘটনাটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছুদিন ধরেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে টানাপোড়েন চলছিল। আগে যারা একই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বলয়ে ছিলেন, তাদের মধ্যেই এখন অবস্থানগত দূরত্ব তৈরি হয়েছে। গত আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও সাখাওয়াত ও আনোয়ারকে একই সমীকরণে দেখা গেছে। বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে সরকার হুমায়ুন কবিরকে সভাপতি এবং এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক পদে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। পরে নির্বাচনে হুমায়ুন-আনোয়ার প্যানেল বড় জয় পায়। সেই সময় সাখাওয়াত ও আনোয়ারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমন্বয় ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে সেই সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে কে আইনজীবী সমিতিতে নেতৃত্ব দেবেন এবং বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্যানেল কীভাবে হবে—এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। মঙ্গলবারের সংঘর্ষ এবং বুধবারের পৃথক অবস্থান সেই বিরোধকে আরও প্রকাশ্য করেছে। ঘটনার পর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের দুই ভাগে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন। তার দাবি, আইনজীবী ফোরামের সিদ্ধান্তের বাইরে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। আলোচনা চলার সময় সাখাওয়াতের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, সাখাওয়াত হোসেন খান ও তার অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা করেছেন। আইনজীবী সমিতিকে দুই ভাগে বিভক্ত করার চেষ্টা এবং পিপি নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়েও সাখাওয়াতের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেইসাথে পুরান কোর্ট এলাকায় নির্মিত জুডিশিয়াল ভবনে আইনজীবীরা যেতে চাচ্ছে না তবে এড.সাখাওয়াত আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এ নিয়ে তার সাথে মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে । সেইসাথে আনোয়ার নব্য গডফাদার হতে চায় বলে জানান টিপু। সাখাওয়াতকে আনোয়ার প্রধানের গুরু বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সাখাওয়াত হোসেন খানও ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে দেখছেন। তার বক্তব্য, আইনজীবী সমিতির মতো একটি পেশাজীবী সংগঠনে এ ধরনের ঘটনা কারও জন্যই কাম্য নয়। এছাড়া তিনি বলেন কারও উস্কানিতে আমাকে অসম্মান করার চেষ্টা করা হয়েছে। আনোয়ার প্রধান জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির রাজনীতিতে মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে দলীয় রাজনীতিতেও তার সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে নগর বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ এখন শুধু বার ভবনের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে থাকছে না। দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থানও এই বিরোধকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে একসময় একই রাজনৈতিক বলয় ও একই নির্বাচনী সমীকরণের অংশ থাকা সাখাওয়াত-আনোয়ার এখন দুই মেরুতে। নেপথ্যে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হলেও এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

০৬:৫৪ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

বিএনপিকে তুলোধুনো করলেন এনসিপির এমপি আল আমিন

বিএনপিকে তুলোধুনো করলেন এনসিপির এমপি আল আমিন

নারায়ণগঞ্জের বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে তুলোধনু করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ঝুট সন্ত্রাস ও ফ্যাসিস্টদের সহযোগি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের। বিকেএমইর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে আবারো ফ্যাসিস্টদের দোসর আখ্যায়িত করে বলেছেন, ছাত্রদলের একজন ত্যাগি নেতা তোলারাম কলেজে হাতেমকে ফ্যাসিস্টদের তোসর বলেছেন, ছাত্র দলের ওই নেতাকে বিএনপির নেতারা হাতেমের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছে। রোববার (২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। তার সেই স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো- অদ্ভুত ব্যাপার!

০৩:৪৯ পিএম, ২ আগস্ট ২০২৬ রোববার