সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বন্দর ইউনিয়নের নির্বাচনী ফলাফল বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে।
ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের শোচনীয় পরাজয় কেবল একটি সাধারণ হার নয়, বরং এটি স্থানীয় নেতাদের দম্ভ আর জনবিচ্ছিন্নতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের আগে বন্দর উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিজেদের এলাকায় অপরাজেয় দাবি করলেও ভোটের বাক্সে তার উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে। ধানের শীষ দূর্গে ১০ দলীয় আজমিরি বিথি জোট দেয়াল ঘড়ি হানা দেয়।
কলাবাগ ও পুরান বন্দর এলাকা: উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভেজ খান এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহেল রানার নেতৃত্বাধীন বন্দর কলাবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থী দেওয়াল ঘড়ির কাছে ৫০২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন। একই চিত্র দেখা গেছে নাসিম ওসমান মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রেও, যেখানে দেওয়াল ঘড়ি ৮৯৯ ভোট পেলেও ধানের শীষ পায় মাত্র ৫০৪ ভোট।
বন্দর কাজী পাড়া কেন্দ্রে ধানের শীষের ৬৪৩ ভোটের বিপরীতে দেওয়াল ঘড়ি ১১৯৪ ভোট পেয়ে বড় জয় পায়। এমনকি উপজেলা বিএনপির সভাপতি রাজু আহাম্মদ ও যুবদল নেতা সম্রাট আহাম্মদ সুজনের নেতৃত্বাধীন হাজী আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ধানের শীষ ১০৪ ভোটে পিছিয়ে থাকে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ধানের শীষের এই বিপর্যয়ের পেছনে প্রার্থীদের চেয়েও স্থানীয় নেতাদের ব্যক্তিগত “দুর্নাম” বেশি দায়ী। বিশেষ করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল, বিচার-শালিসের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং মোবাইল ছিনতাই চক্রের সাথে সংশ্লিষ্টতার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ গ্যাস সংযোগের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। স্থানীয় ভোটারদের মতে, ব্যালটের মাধ্যমেই তারা এসব “জনবিচ্ছিন্ন” নেতাদের বিরুদ্ধে নিরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী আনসার আলীর মতো প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতার এলাকায় মীরকুন্ডি ও বিবিজোড়া কেন্দ্রে পরাজয় রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, মহানগর বিএনপির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লার নিজ এলাকা মোল্লাবাড়ি কেন্দ্রে ধানের শীষ পায় মাত্র ৩৮১ ভোট, যেখানে দেওয়াল ঘড়ি ৭৫৫ ভোট পেয়ে আধিপত্য বিস্তার করে।
বিএনপির সাধারণ কর্মীদের মতে, দলের এই “অথর্ব” এবং বিতর্কিত নেতাদের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দলের দুর্দিনে যারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত এবং সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করে, তাদের ওপর ভরসা করলে আগামীতে দল আরও বড় সংকটে পড়বে।
“এসব নেতাদের রাজনৈতিক পরিপক্কতার অভাব এবং ব্যক্তিগত লোভের কারণে ধানের শীষের আজ এই দশা। এখন সময় হয়েছে নতুন ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব সামনে আনার, অন্যথায় বন্দর উপজেলায় বিএনপিকে আরও চড়া মূল্য দিতে হবে।”

































