সিদ্ধিরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হিরাঝিল আবাসিক এলাকার পাম্প হাউজের দক্ষিণ পাশে একটি পরিত্যক্ত মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি জায়গাটির দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে সংঘর্ষে জড়ান উভয় পক্ষের সমর্থকেরা।
আহত তরুণ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি. এম. সোহেল বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনের একটি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। “রবির নির্দেশে তার ছেলে ও লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। পুলিশ মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি,” বলেন তিনি।
অভিযোগকারী মো. আবুল কালাম আজাদ রাসেল (৪৫) থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তিনি বলেন, তার বন্ধু মো. ইদ্রিস হাসান ঘটনাস্থলে কয়েকজনের চাঁদা দাবির ভিডিও ধারণ করলে তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। ইদ্রিসকে রক্ষা করতে গেলে রাসেলও জি. এম. সোহেল হামলার শিকার হন। এতে তিনজনই আহত হন।
রাসেলের অভিযোগ, হামলার সময় তার পকেটে থাকা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম রবির বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, “রওশন চেয়ারম্যানের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (রাসেল)সহ ৪–৫ জন লোক এসে আমাকে চাঁদাবাজ উল্লেখ করে অপমান করে। এ সময় আমার ছেলে প্রতিবাদ করলে আমি তাদের সরিয়ে দেই। পরে তারা আরও লোকজন নিয়ে এসে মারামারিতে জড়ায়।”
এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪০–৪৫ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—মনিরুল ইসলাম রবি (৫৮), রিনাজ (২৮), প্রীতম (২২), কনক (২৫), রানা (২৮) ও রাঝি (২৪)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ৪০–৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহম্মদ আব্দুল বারিক (ওসি) বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

































