নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

১৯ জানুয়ারি ২০২৬

ফতুল্লায় ইসলামী ভোটারদের মধ্যে হতাশা!

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৮:২৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

ফতুল্লায় ইসলামী ভোটারদের মধ্যে হতাশা!

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট রাজনীতির সমীকরণ দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে ১০ দলীয় জোটের ভেতরে সমঝোতা নিয়ে দেখা দিয়েছে টানাপোড়েন। এর প্রভাব পড়ছে ফতুল্লা এলাকার প্রায় দুই লাখ ইসলামী ভোটারের মনোভাবের ওপর। ভোটের মাঠে প্রার্থী নয়, এখন আলোচনার কেন্দ্রে জোটের ভাঙনের সুর ও নেতৃত্বের দুর্বলতা।

জোট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করলেও আসনটিতে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির কোনো ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি নেই।

এমনকি ফতুল্লা থানা কমিটিও গঠিত হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তার ঘাটতিও স্পষ্ট। ফলে জোটের ভেতরেই প্রার্থী ও কৌশল নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

ভোটের মাঠের জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। জামায়াতের থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি ও সক্রিয় কর্মীবাহিনী রয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও থানা কমিটির পাশাপাশি ৫৪টি ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক কমিটি সক্রিয় আছে। মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা এলাকায় নিয়মিত সংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, এই আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আব্দুল জব্বারের নাম আলোচনায় থাকলেও তিনি মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় ভোটের মাঠে জামায়াত কার্যত অনুপস্থিত।

তবে দলটি শুরু থেকেই এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এতে করে ইসলামী ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশ দোটানায় পড়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিকশা মার্কার প্রার্থী খন্দকার আনোয়ার হোসেন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তাকে ঘিরে ইতিবাচক আলোচনা থাকলেও জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে ইসলামী ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট হতাশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সরাসরি ধানের শীষ প্রতীক অনুপস্থিত থাকায় ইসলামী ঘরানার কোনো শক্ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল জোরালো।

এই আসনে পাঁচ শতাধিক মাদ্রাসা রয়েছে এবং ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এমন বাস্তবতায় রিকশা মার্কার খন্দকার আনোয়ার হোসেন কিংবা হাতপাখা মার্কার মাওলানা ইসমাইল সিরাজীর মতো প্রার্থীরা মাঠে থাকলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে মনে করছেন অনেকে।

ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এখন কেবল রিকশা মার্কাই ইসলামী মূল্যবোধের প্রতীক হয়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন হলে এই আসনে জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। তবে জোটের ভেতরের অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তহীনতা সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়: