সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালাম বিজয়ী হয়েছেন। তবে ১৩ হাজার ভোটের এই ব্যবধানকে ‘আশানুরূপ’ মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও খোদ দলীয় নেতাকর্মীরা।
বিশেষ করে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী নেতাদের নিজ কেন্দ্রে ‘ধানের শীষের’ ভরাডুবি এবং ‘দেওয়াল ঘড়ি’ প্রতীকের বিপ্লব নিয়ে জেলাজুড়ে বইছে সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড়।
নির্বাচনী ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি হাজী নূরউদ্দিন আহম্মদের নিজ এলাকা শুভকরদি কেন্দ্রে।
অভিযোগ উঠেছে, অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে বিজয়ী করতে মুখে বড় বুলি দিলেও বাস্তবে নূরউদ্দিনের ভূমিকা ছিল চরম প্রশ্নবিদ্ধ।
দলীয় কর্মীদের মতে, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে আবুল কালামের ছত্রছায়ায় বালুমহাল ও টেন্ডারবাজি করে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেও, এবারের নির্বাচনে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ‘নিস্ক্রিয়’।
মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণার খরচের জন্য কর্মীরা তার কাছে গিয়ে বিমুখ হয়েছেন। এমনকি তার অনুসারী আব্দুস সাত্তার টাকা খরচ করলেও নূরউদ্দিনের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক বা সাংগঠনিক সহযোগিতা মেলেনি।
এই ‘আন্তরিকতার ঘাটতি’র কারণেই তার নিজের কেন্দ্রে দলের ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করছেন বোদ্ধা মহল।
সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন কলাগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহাদুল্লাহ মুকুলও। তার এলাকা হিসেবে পরিচিত ফরাজীকান্দা ও হাজী ইব্রাহিম আলমচান কেন্দ্রে ধানের শীষের বিপরীতে দেওয়াল ঘড়ির পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটেছে।
দায়িত্বশীল পদে থেকেও কেন তিনি নিজ এলাকায় ধানের শীষের ভোট রক্ষা করতে পারলেন না, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও বিএনপির পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
৩নং ওয়ার্ডের এই বৃহৎ কেন্দ্রে সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মতিনের মতো নেতা থাকা সত্ত্বেও ‘হালে পানি পায়নি’ ধানের শীষ।
৫নং ওয়ার্ডের সেলসারদী কেন্দ্রে বিপুল ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেছেন আবুল কালাম। এই কেন্দ্রের নিকটবর্তী আইসতলা গ্রামের বাসিন্দা বন্দর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন শিশির। তার এলাকায় এমন ফল বিপর্যয় তৃণমূলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বন্দর উপজেলার দক্ষিণ প্রান্ত, বিশেষ করে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন যেখানে বিএনপির শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে সিনিয়র নেতাদের কেন্দ্রগুলোতে এমন ‘লজ্জাজনক’ ফলাফল দলের হাইকমান্ডকে ভাবিয়ে তুলেছে।
বিজয় এলেও এই ফলকে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকে।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও কলাগাছিয়ার এসব ‘জাদরেল’ নেতাদের রহস্যজনক ভূমিকা এবং সাংগঠনিক ব্যর্থতা আগামীর রাজনীতিতে বিএনপিকে বড় কোনো সংকটে ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


































