দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতীহীনভাবে একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে লড়ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৪৮ জন প্রার্থী।
নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বাইরেও শক্তিশালী একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। প্রচারণার শেষ সময়ে ভোটের সমীকরণ পাল্টাতে শুরু করেছে। দিনরাত প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি নিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন।
নানা কায়দায় ভোট প্রার্থনা করেছেন তারা ভোটারদের কাছে। পথসভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ সবই করেছেন। পিছিয়ে থাকেননি প্রার্থীদের স্বজনরাও। তারাও তাদের স্ব স্ব প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন।
প্রচারণার শেষ দিনে অনেক প্রার্থী ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে দিয়েছেন বড় বড় শোডাউন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষে হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। এখন শুরু ভোটের হিসেব-নিকেষ। বিজয়ে হাসি কে হাসবে তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
এদিকে ভোটারদের বড় অংশটি এবার নিরব। তারা মুখ খুলছেন না। তবে তাদের ফিস ফিসানি কান পাতলে শোনা যায়। নিরব এক ভোট বিপ্লব হবে নারী ও তরুণ ভোটারদের ক্ষেত্রে। এমন চিত্র জেলার সবগুলো আসনে। প্রথমবারের মতো যারা ভোট দিবে তারা প্রার্থী বাছাই করছে।
প্রার্থীদের মিছিল, মিটিং আর শোডাউন তাদের আকর্ষন করেনি। তারা আগামির সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মানে সুন্দর সমাজ গড়তে কে ভালো ভুমিকা রাখবে কাকে দিয়ে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন হবে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভুমিদস্যুতা থাকবে না এমন প্রার্থীকেই ভোট দিবে।
এমন আলোচনা তরুণদের মধ্যে। ৫ আগস্টের পর যারা ভয়ঙ্কর চেহারা মানুষকে দেখিয়েছে তাদের জন্য তরুণ ভোটাররা দু:চিন্তার কারণ হতে পারে।
তাছাড়া আওয়ামীলীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদেরও একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। আওয়ামী শিবিরের সেই ভোট টানতে প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোমর বেঁেধ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু ৫ আগস্টের পর আওয়ামী দোসর আখ্যা দিয়ে মামলা ও মামলা বাণিজ্য এবং বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ভুলে যায়নি তারা। যদি তারা ভোট কেন্দ্রে যায় ৫ আগস্টের পরের চিত্র তাদের মনে করিয়ে দিবে।
মোটকথা নারী, তরুণ ও আওয়ামীলীগ, এই তিন শ্রেণির ভোটে নির্ধারিত হবে জয় পরাজয়।


































