জনপ্রতিনিধির কাজ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্ত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। সেখানে স্বয়ং জনপ্রতিনিধিরাই এখন এক সহকর্মীর ভয়ে তটস্থ। গুমের হুমকি, প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলা আর রক্তপাতের মতো ঘটনা ঘটিয়ে পুরো ইউনিয়নকে নিজের জিম্মায় নিতে চাইছেন আব্দুর রশিদ নামের এক ইউপি মেম্বার।,
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ২২টি মামলার আসামি এই রশিদ মেম্বার তিনবার জেল খেটেছেন। ৫ আগস্টের আগে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও শওকত চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকা এই ব্যক্তি পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি খোলস পাল্টে বনে যান ‘বিএনপি নেতা’! যদিও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে ধারেকাছেও ঘেঁষতে দিচ্ছেন না।
সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের জায়গা হলো প্রশাসনের ভূমিকা। ৯ জন ইউপি সদস্য লিখিতভাবে এই রশিদ মেম্বারের ওপর অনাস্থা জানিয়েছেন। পদে থেকে অপকর্মের দায়ে তাকে একবার অপসারণও করেছিল জেলা প্রশাসন। কিন্ত জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসার পর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন হাইকোর্টের একটি রুলের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে তাকেই পুনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসানোর পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউএনও’র এই রহস্যজনক আগ্রহের পেছনে অবৈধ কোনো সুযোগ সুবিধা রয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন ‘রহস্যময় নীরবতা’ রশিদ মেম্বারের জাদুর কাঠির উৎস নিয়ে জনমনে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

































