নারায়ণগঞ্জ শহরে পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া পিস্তল ও গুলি ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই উদ্ধার করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেল আরোহী তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে বন্দরের ফায়ার স্টেশনের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারীরা হলোঃ- শহরের দেওভোগ পানির টাংকি এলাকার মুকুলের ছেলে
বিশাল (৩১), আলী আহমেদের ছেলে ফরহাদ আহাম্মেদ (২৩) ও
আবুল হোসেনের ছেলে হাসান (২১)।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে সাড়াশি অভিযান শুরু করে।
প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নেমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্র লুণ্ঠনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এদিকে, নগর ভবনের সামনে থেকে পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও দেখা দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, এসআই লুৎফর রহমানের ওপর হামলার পর জড়িতদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা অভিযানে নামে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা বেপারীপাড়া এলাকা থেকে প্রথমে বিশালকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে রাতে ফতুল্লার কাশীপুর ব্যাংক কলোনি এলাকা থেকে ফরহাদ ও হাসানকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাত আড়াইটার দিকে বন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিনজনই অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রথম আটক যুবক বিশাল ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। অপর দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ছয়টায় শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমান ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছিলেন। শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নগর ভবনের সামনে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষা করেন। এতে তার মোটরসাইকেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তার সরকারি পিস্তলটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ তথা সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উদ্বেগ দেখা দেয় নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে। রীতিমতো প্রশ্ন ওঠে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।

































