নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাঁচপুর ব্রিজের নিচে বালুর ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংঘটিত এই সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশ ও র্যাব-১১।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁচপুর ল্যান্ডিং সংলগ্ন বালুর ঘাটটি পূর্বে বিআইডব্লিউটিএ থেকে যারা ইজারা নিয়েছিলেন তাদের মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ভাই রাসেল মাহমুদ বিআইডব্লিউটিএ থেকে নতুন করে ঘাটটি ইজারা নেন। বুধবার সকালে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা রাসেল মাহমুদকে ঘাটের দখল বুঝিয়ে দিতে এলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
রাসেল মাহমুদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যখন কাজ করছিলেন, তখন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের অনুসারী ডালিম, তুষার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে জহিরুল হক (৪৭), নূর হোসেন (৪৫) নজরুলসহ (৩৭) ও জিয়াসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে রাজু নামে রিপনের অনুসারি মারধর করে বলে জানা গেছে।
রাসেল মাহমুদ বলেন, আমরা বৈধভাবে ইজারা নিয়েছি। প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সামনেই এমপি মান্নানের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের ৮-১০ জন লোক আহত হয়েছে।
অন্যদিকে, কাঁচপুর বালুর ঘাটের সর্দার আলমগীর জানান, তুষার ও রিপনের নেতৃত্বে রাসেল মাহমুদের অনুসারীরা স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকদের উপর হামলা করেছে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্রও ছিল।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও র্যাব-১১ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, বালুর ঘাট নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

































