বিএনপি, বঙ্গভবন ও ভারতের প্যাকেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা ক্ষ্ন্নু করতে সাইবার অ্যাটাক শুরু হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। বঙ্গভবনের লোকজনকে ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হচ্ছে এবং পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ড মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, যারা স্বাধীনতার ৫৪ বছর দেশ শাসন করেছে, জনগণ এবার তাদের লাল কার্ড দেখাবে। বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে তিনি শেখ হাসিনার ১০ টাকার চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তুলনা করেন।
ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে দেশ পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে যাবে—এমন ভয় দেখানো হচ্ছে। ভোট দিতে গেলে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরা বসানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মাস্তানচক্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
জনসভায় তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। নবজাতকের উন্নত চিকিৎসা, মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রদান করা হবে। আগামীতে জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইসলামী চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাইয়ের চেতনাকে একত্রিত হয়ে দেশ গঠন করবো। দাড়িপাল্লার প্রচারণা চালানোর কারনে বিএনপির যুবকরা আমাদের মা বোনদের হিজাব নিকাব টেনে খুলে নিচ্ছে।
আবার বিএনপি নেতারা বলছে নারীদের কাপড় খুলে নিতে। যারা ভোট চাওয়ার কারনে ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই নারীদের কাপড় খুলতে চায়। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের নারীদের বিবস্ত্র করবে।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমদ, জেলা আমির মমিনুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের দেয়ার ঘড়ি প্রতীক প্রার্থী সিরাজুল মামুন, এনসিপির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এর আগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জনসভায় যোগ দেন।


































