নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দরে মাদক সম্রাজ্ঞী নাজমা-শফিকুল দম্পতি গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৯:৫৬, ১৫ জুন ২০২৬

বন্দরে মাদক সম্রাজ্ঞী নাজমা-শফিকুল  দম্পতি গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদক ও সুদের টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে রাজু (২২) নামে এক যুবককে কৌশলে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কথিত মাদক ব্যবসায়ী নাজমা ও তার স্বামী শফিকুল ইসলামসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত রাজু বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

রোববার (১৪ জুন) বন্দর থানার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত রাজু বন্দর শাহীমসজিদ দত্তবাড়ি এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দর ইউনিয়নের পুরানবন্দর খালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নাজমা ও তার স্বামী শফিকুল ইসলাম মাদক ব্যবসা, চড়া সুদের কারবার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় তাদের একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে।

 

জানা গেছে, রাজুর সঙ্গে নাজমা ও শফিকুলের বেশ কিছুদিন ধরে মাদক ও সুদের টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার নাজমা ফোন করে রাজুকে চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ডেকে আনেন। রাজু মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা চারপাশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাতে কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে না আসে।

 

এ সময় শফিকুল ইসলাম ধারালো রামদা দিয়ে রাজুকে কোপ দিলে তার হাতের কব্জি ও রগ কেটে যায় এবং কানের লতি মারাত্মকভাবে জখম হয়। একই সঙ্গে নাজমা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেটে একাধিক আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অন্যান্য হামলাকারীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখে।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজুর হাত ও পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।