নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

২৯ মার্চ ২০২৬

রূপগঞ্জে গরুর নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, জবাই ৯, উদ্ধার ১১

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৪:২১, ২৭ মার্চ ২০২৬

রূপগঞ্জে গরুর নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, জবাই ৯, উদ্ধার ১১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরে গভীর রাতে গোপনে ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস বলে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িত চক্রটি পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ১১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের হারার বাড়ি এলাকায় একটি নির্জন খালি প্লটে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র গোপনে ঘোড়া জবাই করে আসছিল। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর রাতে একই কৌশলে প্রায় ২০টি ঘোড়া সেখানে আনা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতের আঁধারে একে একে ঘোড়াগুলো জবাই করা হচ্ছিল।

এ সময় শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্লটের মালিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। এমন দৃশ্য দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও র‍্যাব-১ এর একটি দল।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জবাইকারী চক্রটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে র‍্যাব-১ সদস্যরা সেখান থেকে ১১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার ও জব্দ করে। এর আগে অন্তত ৯টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বাচলের বিস্তীর্ণ নির্জন এলাকা ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে পূর্বাচল, খিলখেত, বসুন্ধরা, বাড্ডা, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে ।

এর আগেও একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও চক্রটির মূল হোতারা প্রতিবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। মাঝে মধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হলেও এখনো মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

শুধু পূর্বাচলেই নয়, গাজীপুর ও নরসিংদীসহ আশপাশের এলাকাতেও চক্রটির কার্যক্রম বিস্তৃত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।