ওমানে ভয়াবহ বন্যার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া দুই ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার যুবক সাগর সান।
সম্প্রতি তার এই সাহসিকতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন মহলে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ওমানে ভারী বর্ষনে বার্গা শহরে ওয়াদিগলো রুপ নিয়েছিলো ভয়ংকর প্রয়াণ ফাদে। এমন এক উত্তাল ওয়াদি পার হতে গিয়ে চলতি মাসের ২৩ তারিখে তীব্র স্রোতের মাঝে পরে যায় একটি সাদা প্রাইভেট কার। মুহুর্তেই মধ্যেই গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে একটি পিলারের সাথে আটকে পরে।
গাড়ীর ভিতরে আটকে পরে দুই ভারতীয় কেরালার নাগরিক। ঠিক সেই মূহুর্তে শত শত মানুষ তা তাকিয়ে দেখছিলেন আর কেউ কেউ ভিডিও করছিলেন। তাদেখে কোন প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই সাগর ভারতীয় নাগরিকদের বাচাতে ঝাপিয়ে পরেন। প্রথমে গাড়ীর দরজার কাচঁ ভাঙ্গার চেস্টা করেন । সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে গাড়ীর দরজা খোলার জন্য প্রানপন চেস্টা করে কয়েকদফার পর সফল হোন। দরজা খোলার পরপরই দেখতে পান আতংকিত ভারতীয় দুই নাগরিকের মুখ। তখন তিনি তার শাহবাজ নামের পাকিস্তানের এক সহোযোগির মাধ্যমে গাড়ী থেকে বের করে নিরাপদ উদ্ধার করে তুলে আনেন।
সাগর সান জানান, “ওই মুহূর্তে নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে তাদের বাঁচাতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকেই তখন ভিডিও করছিলেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। আমি মনে করেছি, আল্লাহ হয়তো আমাকে তাদের সাহায্যের জন্যই সেখানে পাঠিয়েছেন।”
সাগর সান নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার ফতুল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দাপা কবরস্থান রোড এলাকার মরহুম হেমায়েত উদ্দিন ও মমতাজ দম্পতির সন্তান। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। তিনি ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি তোলারাম কলেজে পড়াশোনা করেছেন।
দেশে থাকাকালীন তিনি বাটা শোরুমে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল ওমানে পাড়ি জমান।
সাগর বলেন, এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের সুনামও বয়ে এনেছে। প্রবাসে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

































