নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

১০ আগস্ট ২০২২

আড়াইহাজারে ‘বাংলার বাদশা’র দাম ২৫ লাখ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৬:৩৩, ২ জুলাই ২০২২

আড়াইহাজারে ‘বাংলার বাদশা’র দাম ২৫ লাখ

আগামী ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহর সন্তুটি লাভের জন্য মুসুলমানরা ঈদুল আজহার নামাজের পর পশু কোরবানী করেন। ফলে ঈদের কয়েকদিন আগ থেকেই অস্থায়ী পশুর হাটে গরু ছাগল বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন বিভিন্ন অঞ্চলের বেপারীরা। মজার বিষয় হলো ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গরুর চমকপ্রদ নাম করণও করা হয়। তেমননিভাবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কোরবানী হাটে আলোচনায় এসেছে ‘বাংলার বাদশা’ নামে একটি গরু।


বাংলার বাদশা’কে জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে দাবী করা হচ্ছে। আলোচিত বাংলার বাদশাকে দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ছুটে আসছেন। বিশাল আকৃতির এই গরুর উচ্চতা ২০১ সেন্টিমিটার,  লম্বা ৩৩৫ সেন্টিমিটার আর ওজন  প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি বা ৩০ মণ। গরুর মালিক এর দাম হাঁকিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। ফ্রিজিয়ান জাতের এ ষাঁড়টি তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে  লালন পালন করে আসছেন আমিষ এগ্রো। এই বিশাল ষাঁড়টির গায়ের রং কালো। 


‘আমিষ এগ্রো’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান বিল্লাল জানান "বাংলার বাদশা"কে দেখাশোনা করেন ২ জন লোক। গরুটির খাবারের তালিকায় আছে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কেজি ভেজানো ছোলা, গমের ভুসি, ভুট্টা ভাঙ্গা, সয়াবিন মিল, সরিষার খোল, রাইস পলিশ এবং সবুজ কাঁচা ঘাস। ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুকে প্রতিদিন দুইবার করে গোসল করাতে হয়।

 
তিনি আরও বলেন, গরুটির দাম ২৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এই দামে তো আর বিক্রি করা যাবে না। দরদাম নিয়ে আলোচনায় কিছুটা কম দাম হলেও বিক্রি করে দেয়া হবে।


তিনি বলেন, ‘বাংলার বাদশা’কে খাবারের জন্য প্রতিদিন প্রায় হাজার খানেক টাকা ব্যয় হয়। নারায়ণগঞ্জ এর বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখেছি সে অনুযায়ী আমি দাবি করতে পারি যে, এই গরুই বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় গরু। কয়েক বছর ধরে ষাঁড়টি লালন-পালন করে আসছি। ঈদে বিক্রি হয়ে যাবে, এটা ভাবতেই খারাপ লাগছে। এবার ঈদে যদি বাইরে থেকে গরু না আসে, তাহলে হয়তো আমরা আমাদের প্রকৃত মূল্য পাব। আশা করি ষাঁড়ের ন্যায্য দাম পাব। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। 


 মতিউর রহমান বিল্লাল আরো জানান, তাদের কাছে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আরো ৫শতাধিক গরু, ১০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শতাধিক ছাগল, ৮০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৫৪টি দুম্বা  কুরবানির জন্য বিক্রয় উপযোগী  রয়েছে।


 জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আখতার বলেন, এবারো ক্রেতাদের চাহিদা ও সুবিধার কথা চিন্তা করে হাটের পাশাপাশি অনলাইনে গরু কেনাবেচার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনলাইন খামারে গরু বেচাকেনা জমে উঠেছে। এবার অনলাইনে পশু বিক্রি ২০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে খামারিরা আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, হাটগুলোতে থাকবে প্রাণিসম্পদের মেডিকেল টিম। বাইরে থেকে দেশে গরু আসবে না। তাই আশা করি খামারিরা ন্যায্য দামই পাবেন।
 
 

সম্পর্কিত বিষয়: