নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

১২ জুন ২০২৬

আমলাপাড়া আদর্শ শিশু বিদ্যালয়ে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২১:০১, ১২ জুন ২০২৬

আমলাপাড়া আদর্শ শিশু বিদ্যালয়ে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক

নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩৯ নম্বর আমলাপাড়া আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চারটি অভিভাবক প্রতিনিধি পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য থাকায় এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিভাবক ও অভিভাবিকা ক্যাটাগরির চারটি প্রতিনিধি পদের জন্য মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে দুটি পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

 

প্রার্থীদের মধ্যে ১০, এইচ কে ব্যানার্জি রোড এলাকার বাসিন্দা মো. শফিউদ্দিন ও তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার রয়েছেন। তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম রহমানের অভিভাবক। এছাড়া শিক্ষার্থী তাসনিম শারমিন চৌধুরীর পক্ষে তার বাবা তানভীর আলম চৌধুরী এবং মা শারমিন আক্তারও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তানভীর আলম চৌধুরী অভিভাবক পদে এবং শারমিন আক্তার অভিভাবিকা পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

বিষয়টি সামনে আসার পর কয়েকজন অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই পরিবারের একাধিক সদস্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পরিচালনা কমিটিতে পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে বাবা অথবা মা—যেকোনো একজন প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু একই শিক্ষার্থীর বাবা-মা পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রার্থী হওয়ায় অভিভাবকদের বৃহত্তর অংশের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

তাদের অভিযোগ, একই পরিবারের একাধিক সদস্য নির্বাচিত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় একক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সুষ্ঠু প্রশাসন, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রার্থী হওয়ার কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুন নাহার বিউটি বলেন, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বাবা ও মা উভয়েরই ভোটাধিকার রয়েছে। ফলে তারা চাইলে নির্বাচনে প্রার্থীও হতে পারেন। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের প্রার্থী হতে কোনো বাধা নেই।

 

তবে তার চাকরি জীবনে অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের নজির রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মনোনয়নপত্রে কিছু ত্রুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসব কোনো বড় ধরনের সমস্যা নয়।”

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন