
বন্দরে প্রেমিকের বাড়িতে অগ্নিগ্ধ হওয়া প্রেমিকা রোকেয়া ইসলাম আন্নি ৫ দিন মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরিয়ে অবেশে অবস্থায় অবশেষে মারা গেছে।
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) রাতে ১০ টায় ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত প্রেমিকা রোকেয়া ইসলাম আন্নি বন্দর থানার ২২ নং ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকার ইউনুছ মিয়ার বাড়ী ভাড়াটিয়া আলাউদ্দিন মিয়ার মেয়ে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চর- ঘারমোড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
এ ব্যাপারে অগ্নিদগ্ধ প্রেমিকার মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে রোববার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে পাষান্ড প্রেমিক ইকবাল, তার পিতা গোলাম কিবরিয়া,বড় ভাই কামরুজ্জামান, মিলন, ও সিজারকে আসামী করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১৮(১১)২৩।
অগ্নিদগ্ধ ঘটনার পর থেকে পাষান্ড প্রেমিকসহ অন্যান্য আসামীরা পলাতক রয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ বন্দরের ২২নং ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকার ইউনূস মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আলাউদ্দিন মিয়ার মেয়ের সঙ্গে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চর ঘারমোড়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেনের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
এর ধারাবাহিকতায় প্রায় সাপ্তহ খানেক পূর্বে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যতা দেখা দেয়। পরে বিষয়টি আন্নির পরিবারের সদস্যরা মীমাংসার জন্য ইকবালের বাড়িতে গেলে ইকবাল বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে গত ১৬ নভেম্বর বেলা দেড়টায় প্রেমিক ইকবাল আন্নিকে মোবাইল ফোনে প্রথমে নিজে এবং পরে তার উকিল বোনকে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। তাতেও আন্নি বিচলিত না হওয়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে ইকবাল তার বাড়িতে ডেকে আনে এবং ডেকে এনে তাকে তার জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য আন্নিকে চাপ সৃষ্টি করে। তাতেও আন্নি ইকবালকে ছাড়তে রাজী না হলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক হলে এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ইকবাল আন্নিকে জোরপূবর্ক তার রুমে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। আত্নরক্ষার্থে আন্নি ইকবালকে ধরার চেষ্টা করেও সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।