নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

০৪ ডিসেম্বর ২০২১

নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামুনুল-ঝর্ণা মুখোমুখি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৮:১৭, ২৪ নভেম্বর ২০২১

নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামুনুল-ঝর্ণা মুখোমুখি

হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী আলোচিত সেই জান্নাত আরা ঝর্ণা। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে দীর্ঘ সময় তিনি সাক্ষ্য দেন। সাক্ষী দেয়ার সময় মুখের হিজাব খুলতে বলায় কাঠগড়ায় উপস্থিত মামুনুল হক ঝর্ণাকে বলেন, ‘শরীয়তের হুকুম হিজাব খোলবানা ঝর্ণা’। এতে ঝর্ণা একবার হিজাব খুলে বিচারককে মুখ দেখিয়ে ফের হিজাব দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন।


এদিকে সোয়া ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সাক্ষ্য শেষে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘ সময় ঝর্ণাকে জেরা করেন।
বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর রকিবুজ্জামান রাকিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া, হাসান ফেরদৌস জুয়েল প্রমুখ। অপরদিকে আসামী পক্ষে ছিলেন,বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোঃ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ্সহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।


নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রাকিবুজ্জামান রকিব জানান, মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা সোনারগাঁও থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। সেই মামলায় সাক্ষী হয়েছে। সাক্ষীকে উভয় পক্ষ জেরা করেছেন। আদালতের কাঠগড়ায় প্রথমে মুমুনুল হক বার বার বাদীকে উদ্দেশ্য করে দিক নির্দেশনা মুলক কথা বলার চেষ্টা করেছেন। পরে অনুরোধ করার পর সে চুপ থাকেন। এছাড়াও মামুনুল হক দৃস্টি ভাঙ্গিতে বাদী ঝর্ণাকে তার দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। তখন বাদী কাঠগড়ায় অন্য দিকে তাকিয়ে থাকেন। মামলার এজাহারে যা উল্লেখ রয়েছে তাসহ বিভিন্ন বিষয় বাদী সাক্ষীতে উল্লেখ করেন।
এরআগে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়। পরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাকে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।  

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) নাজমুল হাসান জানান,পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাজিপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এদিন মামলার বাদী ঝর্না সাক্ষী দিয়েছেন। বিকেল ২টায় সাক্ষী শেষে মামুনুল হককে ফের কাশিমপুর কারাগারে নেয়া হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে— শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ঝর্ণার দাম্পত্য জীবন সুখে শান্তিতে অতিবাহিত হচ্ছিল। তাদের ১৭ ও ১৩ বছর বয়সি দুই সন্তান আছে। স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ২০০৫ সালে মামুনুল হকের সঙ্গে ঝর্ণার পরিচয় হয়। তাদের বাসায় অবাধ যাতায়াত থাকার সুবাধে ছোটখাটো সাংসারিক মতানৈক্যের মধ্যে মামুনুল সুকৌশলে প্রবেশ করে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। সাংসারিক টানাপড়েনের একপর্যায়ে মামুনুলের ‘পরামর্শে’ ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট শহীদুলের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।

জান্নাত এজাহারে অভিযোগ করেন, বিচ্ছেদের পর তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল তাকে ঢাকায় আসার জন্য ‘প্ররোচিত’ করেন। ঢাকায় আসার পর তার পরিচিত বিভিন্ন অনুসারীর বাসায় রেখে মামুনুল নানাভাবে তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন। এর ধারাবাহিকতায় মামুনুলের পরামর্শে কলাবাগানে এক বাসায় সাবলেট থাকতে শুরু করেন এবং বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে এবং অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, ঘোরাঘুরির কথা বলে ২০১৮ সাল থেকে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে তাকে নিয়ে যেতেন। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়্যাল রিসোর্টে ঘুরতে নিয়ে গিয়েও মামুনুল হক তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন।

উল্লেখ্য, মামুনুল হক গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে ওই রিসোর্টে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

তবে ঘেরাও থাকাবস্থায় এই হেফাজত নেতা জানান, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। দুই বছর আগে তিনি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে করার বিষয়টি মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রী জানতেন না।।
 

সম্পর্কিত বিষয়: