নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিবু মার্কেট পশ্চিম লামাপাড়া এলাকায় জমি দখল নিতে ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে স্থানীয় বিএনপির কথিত এক নেতার নেতৃত্বে একটি বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র ও হামার দিয়ে বসত বাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠে।
বিষয়টি নজরে আসে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর। এরপর তিনি নিজ অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জেলা বিএনপিকে দায়িত্ব দেন অসহায় পরিবারটির কাছে যেতে।
ফলে সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া, এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহমুদুর রহমান আলমগীর প্রমুখ।
এ সময় জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেন। পরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জানান, বসত ঘর সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এক লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের হাতে দেয়া হবে।
হামলাকারীরা বিএনপির কেউ নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, হামলাকারী ও ক্ষতিগ্রস্তরা আপন চাচাতো ভাই। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলা হয়েছে। যারা হামলা করেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা বিএনপির কেউ নয়। আমরা মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখানে এসেছি। হামলাকারীরা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। প্রশাসনও তাদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত রোজিনা বেগম জানান, তার জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের উপরে চাপ দিচ্ছিল স্থানীয় বিএনপির আনোয়ার হোসেন অনু, আনিসুর রহমান ও রুবেলদের একটি গ্রুপ। এক পর্যায়ে তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় ঈদের আগেরদিন ২০ মার্চ সকালে ৩০-৪০ জনের একটি দল লাঠি রড হাতুড়ি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। আলমারি ভেঙ্গে নগদ টাকা স্বর্ণালংকার সহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। হামলায় রোজিনা, তার স্বামী আমিন, ভাই ফারুকসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোজিনা বেগম বাদী হয়ে পরদিন শনিবার (২১ মার্চ) থানায় মামলা করা হয়।
মামলায় সাতজনকে এজাহারভুক্ত করে ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
ফতুল্লা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ।


































