বন্দরে জমি ক্রয়-বিক্রয় ও মাটির ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রনকে কেন্দ্র করে ইটভাটার মালিক মোতালিব হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ৮ মাস পর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তানজিল (২৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত তানজিলের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে বুধবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। সে বন্দর উপজেলার মিনারবাড়ি এলাকার রফিকের ছেলে ।
এরআগে গত রোববার এ মামলার অন্যতম আসামী নবী (৪৬) কে গ্রেপ্তার করেন এসআই ফয়সাল। তবে মোতালিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাকসুদের ছেলে শুভ বাহিনীর সদস্য ইসমাইল ওরফে ইছা এখনো অধরা রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার মুছাপুর ইউপির শাসনেরবাগ সহ আশপাশের গ্রামের কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটভাটা। এসব ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ করেন মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাজাকার পূত্র মাকসুদ হোসেন।
এই এলাকায় বন্ধু ট্রেডার্স নামে একটি নতুন ইটভাটা গড়ে তুলে মাকসুদ চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ। ওই ইটভাটা গড়ে তুলে শুভ ও মাকসুদ চেয়ারম্যান মাটি কাটা ও জমির ব্যবসা একক নিয়ন্ত্রণে নিতে এলাকায় গড়ে তুলে এক সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনী।
শাসনেরবাগ এলাকায় শুভ বাহিনীর প্রধান ইসমাইল ইছা এবং চেয়ারম্যান বাহিনীর প্রধান ইছার ভাই নবী। শাসনেরবাগ এলাকার ব্যবসায়ী মোতালিব তিনি নিজ এলাকায় নিজ জমিতে গড়ে তুলেছে ইটভাটা। নিজের ইটভাটার জন্য ইট তৈরী করতে জমি ক্রয় মাটির ব্যবসা শুরু করে।
কয়েকবছরে বছরে বিপুল সংখ্যক জমি কিনে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করতো মোতালিব। একক ভাবে মাটি কেটে মাটির ব্যবসা ও ২২শতাংশ জমি কিনেই চেয়ারম্যান মাকসুদ ও তার ছেলে শুভ বাহিনীর রোষানলে পড়েন মোতালিব।
জমি বিক্রির দালালী ও জমি সংক্রান্ত বিরোধে জের ধরে ২০২১ সালের ৩১ আগষ্ট রাতে মোতালিব শাসনেরবাগ বাইতুন নুর জামে মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে আলীমুদ্দিন প্রধানের বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর পৌঁছান।
এসময় চেয়ারম্যান মাকসুদের সহযোগী নবী ও তার ছেলে শুভ সহযোগী ইসমাইল ওরফে ইছাসহ ১০/১২ জন মিলে মোতালিবকে এলোপাথারি ভাবে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মাঠিতে লুটিয়ে পড়েন।
এসময় পত্যক্ষদর্শীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত মোতালিব মিয়ার স্ত্রী মাকছুদা বাদী ইসমাইল ইছা ও তার ভাই নবীকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ৩০ লাখ টাকার চাঁদা না দেওয়ায় ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদ ৪নং ওয়ার্ড সদস্য সফুরউদ্দিনকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তুলে টর্চার সেলে নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে মাকসুদ চেয়ারম্যানের পূত্র শুভ ও তার বাহিনী।
এ ঘটনায় সফুরউদ্দিন মামলা করায় ক্ষিপ্ত মাকসুদ ও তার ছেলে শুভ বাহিনী। দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি নানা ধরণের হুমকি দমকি অব্যহত রয়েছে। মাকসুদ চেয়ারম্যান ও তার ছেলে শুভ যে কোনো সময়ে লাঙ্গলবন্দ বাজার, মদনপুর, কুড়িপাড়াসহ সম্ভব্যস্থানে সফুরউদ্দিন মেম্বারকে হত্যা করবে বলে আশঙ্কা তার পরিবারের।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই মো. ফয়সাল জানান, মোতালিব হত্যা মামলার তদন্ত এর আগে আরো দুই অফিসার তদন্ত করেছেন। এ মামলার অন্যতম আসামী নবীকে গ্রেপ্তারের পর আমাকে তদন্তকারি কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত তানজিলের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার সকল আসামিকে গ্রেপ্তারের পর চার্জসীট দাখিল করা হবে।

































