নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

২২ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১২:৩২, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব

ঢাকের বাদ্য, আলোকসজ্জা আর পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ে কয়েক দিন উৎসবের রঙে রঙিন ছিল নারায়ণগঞ্জ। প্রতিমা দর্শন, আড্ডা আর আনন্দ-আয়োজনে কেটেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। এবার সেই উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। উৎসবের শেষ পর্বে প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে শহরের ৫ নম্বর ঘাটে জড়ো হন সনাতনীরা। 

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬।

এ বছর নারায়ণগঞ্জ জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ২১৪টির প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। ২৫টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে না। আর একটি মণ্ডপের প্রতিমা বৃহস্পতিবার বিসর্জন দেওয়ার কথা রয়েছে।

পূজার দিনগুলোতে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসেছেন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, বিদেশি কূটনীতিক, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা। 

পূজার দিনগুলোতে শহরের আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মিশনপাড়ায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি)।

এ ছাড়া জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, নাসিক প্রশাসক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, এনডিএর চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

উৎসবের শেষ পর্ব প্রতিমা বিসর্জনেও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারাও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেখানে ছিলেন।

দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় ৯৪৭ জন পুলিশ সদস্য ও ১ হাজার ৫১৮ জন আনসার সদস্য। দুই বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৬৫। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল এসআরবি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের।

জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি), জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কুইক রেসপন্স টিমও (কিউআরটি) দায়িত্ব পালন করে।

জেলা পুলিশের ভাষ্য, এ বছর পূজামণ্ডপগুলোতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে কয়েক দিনের শারদীয় আয়োজন। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও পূজার দিনগুলোর স্মৃতি নিয়েই ফিরেছেন আয়োজক ও দর্শনার্থীরা।