নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
প্রতিমার নান্দনিকতা, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও পূজা-অর্চনাকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের পরিবেশ। মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা পালনের মধ্য দিয়ে মণ্ডপগুলোতে শুরু হয় দুর্গাপূজার মূল আয়োজন।

আগামী কয়েক দিন প্রতিমা দর্শন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও মণ্ডপ ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে উৎসব উদ্যাপন করবেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। এদিকে উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে জেলাজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে ৯৪৭ জন পুলিশ সদস্য ও ১ হাজার ৫১৮ জন আনসার সদস্য।
শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হলেও মহাষষ্ঠীতে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ দিন দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার আয়োজন এগিয়ে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে এসব আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়ে। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

নারায়ণগঞ্জ শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি মণ্ডপের নকশা, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা। কোথাও ঐতিহ্যবাহী নকশাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কোথাও প্রতিমার কারুকাজ ও মণ্ডপের সৌন্দর্য বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এসব আয়োজন ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

দুর্গাপূজায় প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জাও দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন মণ্ডপে সাজসজ্জা করা হয়েছে। কোনো মণ্ডপে প্রতিমার গড়ন ও কারুকাজে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও নকশা ও আলোকসজ্জায় আনা হয়েছে বৈচিত্র্য।
শহরের আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্ডপের দর্শনার্থী তাপস রায় বলেন, “প্রতিবছর দুর্গাপূজার জন্য অপেক্ষা করি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা দেখার মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে। মণ্ডপের সাজসজ্জা ও প্রতিমার সৌন্দর্য দেখতে ভালো লাগে।

উকিলপাড়া হোসিয়ারি পূজা মন্ডপের দর্শনার্থী জয়া সাহা বলেন, দুর্গাপূজা আমাদের কাছে আনন্দের একটি বড় উপলক্ষ। আমরা চাই, সবাই যেন নিরাপদে মণ্ডপ ঘুরে দেখতে পারেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন।
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে ৯৪৭ জন পুলিশ সদস্য ও ১ হাজার ৫১৮ জন আনসার সদস্য। এ দুই বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা ২ হাজার ৪৬৫। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এসআরবি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের।

উৎসব চলাকালে পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে পারে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জরুরি সেবার সংস্থাগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


































