নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১৭ মার্চ ২০২৬

সোনারগাঁয়ে বেড়েই চলছে অবৈধ চুন কারখানার সংখ্যা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২৩:৪১, ১৬ মার্চ ২০২৬

সোনারগাঁয়ে বেড়েই চলছে অবৈধ চুন কারখানার সংখ্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভা এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ চুন  কারখানার  সংখ্যা। অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি এবং পরিবেশ দূষণের অভিযোগে এসব কারখানার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকায় জনবসতির মাঝেই একাধিক চুনা কারখানা গড়ে ওঠায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দত্তপাড়া এলাকার মো. ইউনুসের পরিত্যক্ত জমি এবং দত্তপাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশের জায়গায় অবৈধভাবে কয়েকটি চুনা কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দৌলোরবাগ মসজিদের পাশেও আরেকটি চুনা কারখানা চালু রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এসব কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও তীব্র তাপে আশপাশের পরিবেশ দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসী জানান, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এর আগে দুই-একবার অভিযান চালিয়ে কিছু কারখানা বন্ধ করলেও রহস্যজনকভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো আবার চালু হয়ে যায়। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ চুনা কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের অভিযানও অনেক সময় স্থায়ী ফল বয়ে আনতে পারছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সোনারগাঁও পৌরসভা এলাকায় এখন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে অবৈধ চুনা কারখানা। দেশের যখন গ্যাস সংকট তীব্র, তখন অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার করে এসব কারখানায় চুনা উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ঘরে গ্যাস থাকে না, রান্না করতে কষ্ট হয়। কিন্তু অবৈধভাবে কারখানায় গ্যাস জ্বলছে দিন-রাত। এটা অন্যায় এবং মেনে নেওয়া যায় না।”

এ অবস্থায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবৈধ চুনা কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিবেশ রক্ষা পাবে, গ্যাসের অপচয় বন্ধ হবে এবং এলাকাবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্পর্কিত বিষয়: