দীর্ঘ ১৮ মাস পর নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ব্যানার সাঁটিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন নেতাকর্মী।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে দেখে তারা স্থান ত্যাগ করেন।
এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসে জড়ো হন ২২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ আলী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী সাদিম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী সায়মন মির্জাসহ ৫ জন কর্মী।
এ সময় জরাজীর্ণ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচতলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ শাখার একটি ব্যানার সাঁটিয়ে তারা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন।
এ সময় তারা, ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘নারায়ণগঞ্জের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’, ‘নারায়ণগঞ্জের মাটি বঙ্গবন্ধু ঘাঁটি’, ‘নারায়ণগঞ্জের মাটি শেখ হাসিনার ঘাটি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এদিকে এ ঘটনায় পুরো নারায়ণগঞ্জে বেশ আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, এ বিষয় নিয়ে আমাদের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমরা এই বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেছি। যেহেতু তারা নিষিদ্ধ সংগঠন এ বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।
এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে নতুন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এসকল কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার নেয়ার জোর দা্িব করছি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, আজকে দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে তারা যে স্লোগান দিয়েছে এটা তারা রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করেছে। এই আইন অমান্য করার জন্য তাদের বিচার হতে পারে।
যেহেতু তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে তারা সরকারের কাছে আবেদন করে পরবর্তীতে তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। যদি সরকার সেভাবে তাদেরকে অনুমতি দেয়। তারা সরকারের কাছে আবেদন করুক আমরা সুষ্ঠু দ্বারা রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাই।
গত ১৫ বছর তারা যে ফ্যাসিবাদের পরিচয় দিয়েছিল সেখান থেকে তাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইন অমান্য করে তারা আজকে যেই স্লোগান দিয়েছে এটাও কিন্তু ফ্যাসিবাদের একটি অংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সেখানে কোনও ব্যানারও পাইনি। স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, যারা স্লোগান দিয়েছিল তারাই ব্যানার সরিয়ে নিয়ে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত য়য়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি দফায় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের সাথে সাথে নেতাকর্মীরাও আত্মগোপনে চলে যান।
আবার কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমান। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনও দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
এই অবস্থায় একসময় নেতাকর্মীদের দ্বারা সবসময় জমজমাট থাকা শহরের দুই নং রেলগেইট এলাকার আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি জনমানবহীন ভুতুরে ভবনে পরিণত হয়।


































