বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কামাল প্রধান অভিযোগ করেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ভুয়া ফেসবুক আইডি ও ই-মেইল ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ব্যক্তিগত বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, জোটের সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় কামাল প্রধান বলেন, তিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে বিএনপির সাবেক জোটসঙ্গী এলডিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০১৬ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে এম এ বাসারের নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও জনগণের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কিছু দায়িত্বশীল নেতা আওয়ামী লীগের দোসর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি, ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, প্রতারণা ও মাদক-সংক্রান্ত মামলার অভিযুক্ত বা পলাতকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কামাল প্রধান আরও বলেন, জোটের নেতাকর্মীদের কেবল জাতীয় নির্বাচনের সময় গুরুত্ব দেওয়া হয়, অন্য সময়ে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে এবং ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে তিনি তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা হারুনের মাধ্যমে মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া বিদেশে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয় বলে দাবি করেন। তিনি জানান, আইনি লড়াই শেষে নিম্ন আদালতে একাধিক মামলায় খালাস পেয়েছেন এবং বাকি দুটি মামলা বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কামাল প্রধান। তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশের আগে বর্তমান আইনি অবস্থান যাচাই করা উচিত।
তিনি আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে বিএনপি জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিতর্কিত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কামাল প্রধান বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্ষণ, প্রতারণা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার অভিযুক্তদের আশ্রয় না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি ও সমমনা জোটের ঐক্য সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


































