নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) বন্দরের কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রশাসনিক কাজে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও দক্ষ জনবলের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে সার্বিক কার্যক্রম। পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নগরবাসী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয়ে বর্তমানে ফাইলে স্বাক্ষর করার মতো প্রয়োজনীয় পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে ছোট-বড় সব ধরনের ফাইল অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয় শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত নগর ভবনে। সেখানে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার স্বাক্ষর শেষে ফাইল আবার ফেরত আসে কদমরসুল কার্যালয়ে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একটি ফাইলকে অন্তত চার থেকে পাঁচবার নগর ভবন ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষ দিলে ফাইলে দ্রুত স্বাক্ষর হয়, অন্যথায় দীর্ঘদিন ফাইল চালাচালি চলতে থাকে। ফলে সাধারণ একটি কাজ সম্পন্ন করতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলীনূর মিয়া বলেন, নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করলেও তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। হোল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তন, ওয়ারিশ সনদ কিংবা ট্রেড লাইসেন্স সংশোধনের মতো কাজে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। ‘ফাইল নগর ভবনে পড়ে আছে’—এমন অজুহাতে নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয় পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক জনবল না থাকায় বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পদায়ন না থাকায় অধিকাংশ কার্যক্রমই নগর ভবনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, হোল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য তিনি সাত মাস ধরে চেষ্টা করেও কাজটি সম্পন্ন করতে পারেননি। তার অভিযোগ, ঘুষ না দিলে নানা কৌশলে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়।
২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নূর হোসেন অভিযোগ করেন, কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী দ্রুত ফাইল ছাড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করছেন। ঘুষ না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে নাগরিকদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা না গেলে নাগরিক সেবার মান আরও অবনতি হবে এবং জনভোগান্তি বাড়বে।
এদিকে, কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রমে গতি ফেরাতে সপ্তাহে একদিন সেখানে অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। স্থানীয়দের আশা, এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে।


































