নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

৩০ জানুয়ারি ২০২৩

রূপগঞ্জে মহাসড়কে শতাধিক দোকান বসিযে চলছে চাঁদাবাজি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৭:১৩, ২৬ নভেম্বর ২০২২

রূপগঞ্জে মহাসড়কে শতাধিক দোকান বসিযে চলছে চাঁদাবাজি

রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইলস্থ চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা বাইপাস মহাসড়ক দখল করে শতাধিক দোকান গড়ে চাঁদা তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়ায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা বাইপাস মহাসড়কের সংযোগস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে এ বাজার। এসব দোকানে পাইকারী ও খুচরা ফার্ণিচার বিক্রি করা হয়।


সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৈরি ফার্ণিচার, খাবার হোটেল, চায়ের দোকানসহ শতাধিক দোকান রয়েছে মহাসড়কের পাশে। এছাড়াও মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে তৈরি পোশাক, কাঁচা বাজার, মাছ বাজার, ফলের আড়ৎ, প্লাস্টিক সামগ্রী, হরেক রকম আইটেমসহ ২ শতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। 


এসব দোকান থেকে দৈনিক ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা ভাড়ার নামে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। রয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ও গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় আরো কয়েক শতাধিক দোকান। এসব দোকান ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে বসানো হয়েছে। এসব দোকান থেকে মাসে ৬০ লাখ থেকে ৭০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। 


ফকির ফ্যাশনের শ্রমিক মুজাম্মেল হক, আইরিন আক্তার, মনোয়ারা বেগম জানান, ভিড়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত নারীরা নানাভাবে বখাটেদের লাঞ্ছনা ও কটূক্তির শিকার হন। বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় তাদের। 


স্থানীয়রা জানান, ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় যানজট রোধে সরকার সাড়ে তিনশ কোটি টাকা ব্যায়ে ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণ করেন। কিন্তু রাতে ফ্লাইওভার ব্রিজের লাইট বন্ধ থাকায় প্রতি রাতেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ফলে চালকরা ফ্লাইওভারের নিচ দিয়েই চলাচল করে থাকে। 


আর দোকানপাটের দখলে থাকায় মহাসড়কে যানজট নিত্যদিনের। গোলাকান্দাইল বাস স্ট্যান্ড জুড়ে রয়েছে রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ড থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়ক থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। 


সম্প্রতি প্রশাসন লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালায়। অভিযান শেষে ২ ঘন্টার মধ্যেই আবার সড়ক, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। 


সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইপাস সড়কের পুরোটাই দখল করে দুই পাশে লাইন করে বসানো হয়েছে দোকান। পথচারী সুজন, ইদ্রিস, আমজাদ হোসেন, মনির, বিপ্লব সড়কে বাজার বসানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।


অগ্রিম ও দৈনিক ভাড়ার বিনিময়ে রাস্তার ওপর দোকান বসিয়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ২৫ বর্গফুট আয়তনের দোকানে দেড় লাখ এবং ৫০ বর্গফুট আয়তনের দোকানে তিন লাখ টাকা করে অগ্রিম এবং দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া দিচ্ছেন তারা। 


এ বাজার বসিয়ে অগ্রিম হিসেবে কমপক্ষে তিন কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। আর দৈনিক ভাড়া আদায় করছেন প্রায় দেড় লাখ টাকা। উচ্ছেদ অভিযান হলে ওইসব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। অভিযান শেষে আবার পুরোদমে চলে কেনাবেচা। 


তবে এ দোকানপাট দখল কিংবা চাঁদা প্রদানের বিষয়ে কোনো দোকান মালিক কথা বলতে রাজি হননি। শুধু প্রশাসন ও স্থাণীয় নেতাদের ম্যানেজ করে মাসোহারার ভিত্তিতে তারা ব্যবসা করছেন বলে জানান। 


নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বহুবার উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তার পরও আবার দোকানপাট বসেছে বলে জানতে পেরেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার উচ্ছেদ করা হবে।