নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

২১ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে শয্যাশায়ী প্রবাসীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ দুই দারোগার বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৮:৪৫, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে শয্যাশায়ী প্রবাসীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ দুই দারোগার বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গুরুতর অসুস্থ ও শয্যাশায়ী এক প্রবাস ফেরত যুবককে মাদক মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ওই যুবককে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বন্দর থানার এসআই মো. লুৎফর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলার বিষয়ে যথাযথভাবে অবগত না হয়েই স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

গত ২০ অক্টোবর পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে এসব কথা উল্লেখ করেন বন্দর থানার তিনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শারীরিক প্রতিবন্ধী হাজী লোকমান হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লোকমান হোসেনের ছোট ছেলে রনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ অক্টোবর তাঁকে দেশে এনে ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের মেডিহোম হাসপাতালে তাঁর জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে তাঁকে তিন থেকে চার মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর তিনগাঁও এলাকায় ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ১১ অক্টোবর বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ১৬(১০)২০২৬। এসআই মো. লুৎফর রহমান দায়ের করা ওই মামলায় গুরুতর অসুস্থ ও শয্যাশায়ী রনিকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর বাবা।

লোকমান হোসেনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁর ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ছেলেকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানোর পর মামলার বিষয়ে বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় ওসি মামলাটি সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই তাতে স্বাক্ষর করার কথা জানিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, মামলা থেকে তাঁর অসুস্থ ছেলের নাম প্রত্যাহার এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন হাজী লোকমান হোসেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।