নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাসিকে যুক্ত হচ্ছে ফতুল্লা-কুতুবপুর-এনায়েতনগর

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৭:০৩, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাসিকে যুক্ত হচ্ছে ফতুল্লা-কুতুবপুর-এনায়েতনগর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণে সদর উপজেলার ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে আগের প্রস্তাবে থাকা কাশীপুর ইউনিয়নকে সর্বশেষ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ মতামত জানানো হয়।

 

জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ এবং সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই ও ১১ আগস্ট গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিদর্শন কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

 

পরিদর্শন কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দাখিল করে। গণশুনানি ও পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধিমালার ৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জনসংখ্যা, পেশা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, নগরায়ণ এবং স্থানীয় জনমত বিবেচনায় এসব এলাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তির উপযোগী।

 

আগের প্রস্তাবে ছিল কাশীপুরও

 

নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের প্রাথমিক উদ্যোগে সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন—কুতুবপুর, ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগরের নির্ধারিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। গত ৭ জুলাই সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দেন।

 

প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকে যুক্ত করার কথা ছিল।

 

এ ছাড়া ফতুল্লা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট অংশ, কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অংশবিশেষ নাসিকের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

 

কিন্তু গণশুনানি ও সরেজমিন পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে প্রাথমিক প্রস্তাবে থাকা কাশীপুর অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর—এই তিন ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে।

 

দীর্ঘদিনের দাবিতে নতুন গতি

 

ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর ও কাশীপুরকে নাসিকের আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিনের। চলতি বছরের মে মাসেও সম্পূর্ণ কুতুবপুর ইউনিয়নকে নাসিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি দেন।

 

জুলাইয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারাও ইউনিয়নটিকে নাসিকের আওতায় আনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। তারা ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়নকে খণ্ডিতভাবে নয়, একযোগে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

 

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও সংসদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর ও কাশীপুরকে নাসিকের আওতায় আনার বিষয়ে সরকারি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসনের মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও তখন জানানো হয়েছিল।

 

কী সুবিধা মিলতে পারে

 

সীমানা সম্প্রসারণ চূড়ান্ত হলে নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এর মধ্যে সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, আলোকায়ন, নগর অবকাঠামো এবং অন্যান্য সিটি সেবা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় কর কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

 

উল্লেখ্য, নাসিকের বর্তমান সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগটি দীর্ঘদিনের একটি আলোচনার ধারাবাহিকতা। ২০২৫ সালেও ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর ও কাশীপুরসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প ও আবাসিক এলাকার সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ মতামত এখন স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে