সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে নতুন দাম কার্যকরের পর নারায়ণগঞ্জের খুচরা বাজারে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার (৪ অক্টোবর) ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। নতুন এ দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়।
অথচ সোমবার (৫ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা, ফতুল্লার মাহমুদপুর, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬১৩ থেকে ৬৬৩ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রথমে দোকানে গিয়ে এলপিজি চাইলে বিক্রেতারা ‘সিলিন্ডার নেই’ বলে জানান। পরে দোকানি যে দাম চান, সেই দামে কিনতে রাজি হলেই ‘সিলিন্ডার আছে’ বলে দেওয়া হয়। তবে বেশি দাম নেওয়া হলেও কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।
শহরের জামতলা এলাকার গৃহিণী কেমেলিয়া আক্তার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। আজ একই সিলিন্ডারের দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু বেশি দাম দিয়ে কিনলেও কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।’
তিনি বলেন, ‘অনেক দোকানে বেশি দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তাহলে আমাদের কেন এত বেশি দামে কিনতে হবে?’
ফতুল্লার মাহমুদপুর তাজউদ্দিন মার্কেট এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী আয়শা আফরোজ জানান, তার আম্মু আজকে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গেলে দোকানী ২ হাজার ৪৫০ টাকা দাম চেয়েছে।
ফতুল্লার বাংলাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী ইকবাল দাবী করেন, তিনি বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকা করে বিক্রি করছেন। তার দাবি, সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে।
তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার দাম বাড়ানোর আগের নির্ধারিত মূল্যই যেখানে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা ছিল, সেখানে রোববার নতুন দাম ঘোষণার পর সোমবারই ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও বাজারে তার সুফল পাচ্ছেন না তারা।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ভোক্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, আমদানি ও সরবরাহ যদি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় কেন সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না?
অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ফলে নারায়ণগঞ্জের ভোক্তাদের প্রশ্ন এখন একটাই-সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেন? সরবরাহ সংকটের প্রকৃত কারণই বা কী?
ভোক্তারা বিষয়টি তদন্ত করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত দাম আদায় ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন রবিন জানান, সরকার যখান ১২ কজি এলপিজির দাম ১৮৩৭ টাকা নির্ধারিত কর দিয়েছে ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। এটা দু:খজনক। ভোক্তা যখন এলপিজি সিলিন্ডার কনতে দোকানে যাচ্ছে প্রথমে বলা হয় নাই, যখন বেশী দাম দিয়ে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে তখন ঠিকই দেয়া হচ্ছে। বেশী মুনাফার জন্য পরিকল্পিত ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।
তিনি আরও জানান, তাছাড়া দোকানী বেশি দামে বিক্রি করলেও ভোক্তাকে রশিদ সরবরাহ করছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমরা মনে করি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্মিত মনিটরিং প্রয়োজন। মনিটরিং জোরদার করা হলে অসাধু সিলিন্ডার ব্যবসায়ী ভোক্তাদের বেশী দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য করতে পারবে না।


































