নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পিবিআইয়ের চার্জশিটের ৫ বছর পর রূপগঞ্জের  ব্যবসায়ি হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২১:৪২, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পিবিআইয়ের চার্জশিটের ৫ বছর পর রূপগঞ্জের  ব্যবসায়ি হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ব্যবসায়ী হেকমত আলীকে (৪০) হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরেক সহযোগীকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র অভিযোগপত্র দালিখের ৫ বছর পর সাক্ষ-প্রমান শেষে আদালত এই রায় দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম রফিকুল ইসলাম সবুজ (৩০)। তিনি রূপগঞ্জের মোল্লাবাড়ি এলাকার ইয়াকুব হোসাইনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।

অন্যদিকে, তার ভাই মাহফুজুর রহমানকে (২৬) ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মাহফুজুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ (পিপিএম) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মামলা চলাকালীন আসামি ইয়াকুব মারা যায়। এবং অপর আসামি মামুনকে আদালত খালাস দিয়েছে মামলার রায়ে।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ’র দাখিল করা চার্জশিটের তথ্যমতে, হেকমত আলী রূপগঞ্জের কালাদি এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে। তিনি ভুলতা নুর ম্যানশন মার্কেটে মোটর পার্টসের দোকান হাসান এন্টারপ্রাইজের মালিক ছিলেন। ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন হেকমত আলী।

পরে ১৪ এপ্রিল তার দোকানের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম সবুজ, তার ভাই মাহফুজুর রহমান, মামুন মিয়া ও বাবা ইয়াকুব মোল্লাকে আসামি করে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলা করেন হেকমতের স্ত্রী রোকসানা বেগম।

পরবর্তীতে ওই বছরের ১১ জুন মামলাটির তদন্তভার ন্যাস্ত হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ এর উপর। পরে পিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজকে রিমান্ডে নেয়। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তার দেখানো মতে, ২ জুলাই এশিয়ান হাইওয়ে রোড সংলগ্ন কুশাব এলাকাস্থ পারটেক্স গ্রুপের মালিকানাধীন দিঘী (মাছের ঘের) হতে ড্রামটি উপরে তুলে ড্রামের ভিতর থেকে হেকমত আলীর পঁচা গলা লাশ উদ্ধার করে পিবিআই।

পরে হত্যার দায় স্বীকার করে রফিকুল ইসলাম সবুজ আদালতে স্বীকারোক্তী দেয়। সে জানায়, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বস্তাবন্দি লাশ ড্রামের ভেতরে ঢুকিয়ে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সেটি মাছের খামারে ফেলে দেওয়া হয়।

পরে ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ, মাহফুজ, মামুন ও ইয়াকুবকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন পিবিআই।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ’র পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ১৪ মাস তদন্ত শেষে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে আমরা আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছি।

সম্পর্কিত বিষয়: