নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১৩ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলীকে হত্যার আগে তার ভাইকে গুলি করে রনি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৭:৩৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলীকে হত্যার আগে তার ভাইকে গুলি করে রনি

ভাই রবিউলকে গুলি করা হয়েছে, আর সহযোগী হাফিজকে মারধর করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাহেব আলী। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে সজিব। সেখানে গিয়ে প্রতিপক্ষের রনিকে মারতে ইট হাতে নেওয়ার সময় সাহেব আলীর মাথায় গুলি করেন রনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে খালে পড়ে যান সাহেব আলী। পরে তাকে লক্ষ্য করে আবারও গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনি এলাকার বালুর মাঠ ও ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সাহেব আলী ও তার ভাই রবিউলের সহযোগী হাফিজের শাশুড়ি রাজিয়া।

রাজিয়া জানান, তার মেয়ের জামাই হাফিজ ও রবিউল বিকেলে ওয়াপদার বালুর মাঠে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় রনি ও আসলাম সেখানে এসে প্রথমে রবিউলকে গুলি করেন। গুলিটি রবিউলের হাতে লাগে। এরপর হাফিজকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

রাজিয়া বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে হাফিজকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এ সময় রবিউল তার ভাই সাহেব আলীকে ফোন করে।’

তিনি আরও বলেন, ফোন পেয়ে সাহেব আলী ও তার ছেলে সজিব খালি গায়ে দৌড়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় সাহেব আলী রনিকে মারতে একটি ইট হাতে নেওয়ার মুহূর্তে রনি মাথায় গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহেব আলী সঙ্গে সঙ্গে পাশের খালে পড়ে যান।

রাজিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর রনি আবারও গুলি করার চেষ্টা করেন। প্রথমবার গুলি না হওয়ায় অস্ত্রটি পুনরায় লোড করে আবার গুলি করেন তিনি। পরে রনি ও আসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

সাহেব আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও নাশকতার তিনটি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাঁচটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ছদ্মবেশে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান বলে জানিয়েছে র‍্যাব।