নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

২৩ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে মাকসুদা হত্যা মামলার মাস্টার মাইন্ড সামাউল অধরা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৯:২৩, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে মাকসুদা হত্যা মামলার মাস্টার মাইন্ড সামাউল অধরা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর মাকসুদা বেগম হত্যা মামলার হুকুমের আসামী সামাউন হাবিব ওরফে সায়মন এখনো অধরা রয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে এ মামলার ১ নম্বর ও ৩নম্বর আসামী যথাক্রমে সাদ্দাম ও তায়েম হাবিবকে গ্রেফতার করলেও হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড সামাউন ওরফে সায়মনকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করছেনা। পুলিশের ব্যর্থতায় জনমনে নানা ক্ষোভের সঞ্চার করছে। এদিকে সামাউন ওরফে সায়মন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের মাঝে অজানা সংশয় বিরাজ করছে। মামলার বাদী নাদিম মিয়া জানান, আমার মায়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশ যদিও তৎপর কিন্তু মূল আসামী সামাউন ওরফে সায়মনকে গ্রেফতারে পুলিশের অনীহা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। সে তার ঢাকার বাড়িতে নিশ্চিন্তে রাত্রিযাপন করছে অথচ পুলিশ তাকে কোনভাবেই ধরছে না। আমার কাছে খবর রয়েছে তার বাড়ির মালিক আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। আওয়ামীলীগের আমলেও এই সামাউন ওরফে সায়মান তার ছত্রছায়ায় ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে। পটপরিবর্তণের পর পরই সে নিজ গ্রাম মাহমুদনগর এসে বিশাল মাপের বিএনপি নেতা বনে গেছেন। আমি আমার মায়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

             স্থানীয় একাধিক সূত্র ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সামাউন হাবিব এলাকায় ফিরে এসে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বীরদর্পে সন্ত্রাসী ও দখলদারি কার্যক্রম শুরু করেন। মূলতঃ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নাম ব্যবহার করে তিনি এলাকায় নিজস্ব বলয় ও একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। এই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইনসি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ঠিকাদারিত্ব, ওয়েস্টেজ (বর্জ্য) মালের একক নিয়ন্ত্রণ এবং ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক নিজের কব্জায় নেন। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, নিহত মাকসুদা বেগমের ছেলে রাসেল ইসলাম ব্যবসা সূত্রে দীর্ঘদিন যাবত অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনের কাছে ১৯ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো বিএনপির নাম ভাঙানো প্রভাবশালী চক্রের প্রভাবে রাসেলকে নানা সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল আসামিরা। গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ রাত পৌণে ৯টায় মাহমুদনগর এলাকায় ইনসি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ২য় গেইট সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর রাসেল ইসলামকে পেয়ে গালিগালাজ শুরু করে সাদ্দাম। এর একপর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন (২৮), সামাউন হাবিব (৫০), তায়েম হাবিব (২৮), ওয়ালিদ মুন্সী (৩০), খোকন মিয়া ওরফে তুরগআলী (৬০), মো: সিয়াম (২৩) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাসেল ইসলামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হুকুমের আসামি সামাউন হাবিবের নির্দেশে সাদ্দাম হোসেন রামদা দিয়ে রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিঠে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। অন্য আসামিরা চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। এ সময় রাসেলকে বাঁচাতে তার মা মাকসুদা বেগম এগিয়ে এলে আসামিরা রামদা দিয়ে তার মাথার পেছনে, ঘাড়ে ও পিঠে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তার চাচা শফিকুল ইসলাম এগিয়ে আসলে তাকেও ধারালো দা দিয়ে কোপানো হয়, এতে তার বাম হাত কেটে মারাত্মক জখম হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মা মাকসুদা বেগম মারা যান। গুরুতর আহত রাসেল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং শফিকুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো: নাদিম মিয়া (৪৯) বাদী হয়ে সাদ্দাম হোসেন, সামাউন হাবিবসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশের বক্তব্য, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে নেমে ১ নম্বর আসামি সাদ্দাম হোসেন ও ৩ নম্বর আসামী তায়েম হাবিবকে রাজধানীর একটি হাসপাতাল থেকে এবং পরে পরে ৩ নম্বর আসামী তায়েম হাবিব নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিসহ আধিপত্য বিস্তারকারী মূল হোতা ও হুকুমের আসামি সামাউন হাবিবকে গ্রেফতারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্পর্কিত বিষয়: