নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘আমি সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী, গিয়াসউদ্দিন সন্ত্রাসের গডফাদার’ (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:১৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

“আমি সন্ত্রাস হয়ে থাকলে সন্ত্রাস হবো। আমি এক চুল পরিমাণ ভয় পাই না। ওই রাজনীতি শিখি নাই, কাউকে ভয় করে আমি চলি না। রূপ দেখবেন? জাস্ট নির্বাচনটা যাক, আমার রূপ দেখবেন।

ভাইবেন না আমি অনেক সরল-সোজা। আমি কিন্তু আঘাত... আমি সব ফলো করতেছি। কে কি বলেন, কে কি করেন-সব আমার ডায়েরিতে নোট করা হচ্ছে। সময় হলে জবাব দিব, উচিত জবাব দিব।

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক’দিন আগে ২নং ওয়ার্ডে এক সভায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক  ইকবাল হোসেন তার গুরু সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গিয়াসউদ্দিনকে সন্ত্রাসের গডফাদার আখ্যা দিয়ে ইকবাল আরও বলেন, ঐ যে কয়দিন আগে এখানে এক নেতা আইসা বইলা গেছেন না? যার পিছনে ১৭ বছর রাজনীতি করেছি। যাকে কি কয়... হয় গুরু মেনে না নেতা মেনে দীর্ঘ ১৭ বছর তার সাথে রাজনীতি করেছি, সে আমাকে এখন কি বলে গেছে? সন্ত্রাসী।

সন্ত্রাসী! আমি কি আপনাকে সন্ত্রাস বলেছি? বলেছেন ভালো। দীর্ঘ ১৭ বছর যদি আপনার সাথে রাজনীতি করে আমি সন্ত্রাস হয়ে থাকি, তাহলে তো সন্ত্রাসের গডফাদার আপনি। সন্ত্রাস আপনি বানিয়েছেন।

উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে ইকবাল বলেন, “তো দয়া করে আমি আপনাদেরকে বলবো, যারা আমাকে সন্ত্রাস বলে গেল, আপনারা প্রতিবাদ করেন নাই, তাকে উৎসাহ দিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন। তারা জবাব দিতে হবে। কারণ আমি কি সন্ত্রাসী? ।

আমি কোনো ব্যক্তিরে চাই নাই আর ব্যক্তির জন্য রাজনীতি করি না। সুতরাং আমার সাথে কেউ তালবাহানা কইরেন না। তালবাহানা কইরেন না, আমি খুব ভালো খেলোয়াড়”।

“আর কে কি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিল সেটা ফলো করেন, সেটাও ফলো রাখেন। আমাকে জানাবেন, ডকুমেন্টসসহ দিবেন। আমি নির্বাচনের পরে ব্যবস্থা নিব। আমাকে কেউ দুর্বল ভাইবেন না। আমি দুর্বল সাইজা রইছি। দুর্বল সাইজা রইছি, আমাকে কেউ দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নাই।

যদি দুর্বল হইতাম তাহলে ১১ সালে তো শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে নির্বাচন করেছি। সারা বাংলাদেশের ইন্টারপোলের আসামী। সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী আমি আমাকে ভয় দেখাইয়া লাভ নেই”।

আমি খুব কৌশলগত, কারণ... আমি কৌশল করে চলতে পছন্দ করি এবং আমাকে ভীতু ভাবারও কোনো কারণ নাই। আমি কাউকে ভয় পাই না। কাউকে পরোয়া করি না। আর কে কি করে আমার বিরুদ্ধে কথায় কি বলে, কে মাইকিং করে কে কি করে আমার সব নোট করা হচ্ছে।

আমি ছাড়বো না। ছাড়বো না। অহেতুক আমাকে হয়রানি করবে আমি কাউকে ছাড়বো না। আমি সন্ত্রাস হয়ে থাকলে সন্ত্রাস হবো। আমি একচুল পরিমাণ ভয় পাই না।”

এদিকে ইকবালের আক্রমনাত্মক এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ২নং ওয়ার্ড তথা সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর মাঝে।

ফলে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ সিদ্ধিরগঞ্জের ২ নং ওয়ার্ডের কোন কেন্দ্রেই বিজয়ী হয়নি। দাঁড়িপাল্লার কাছে পরাজিত হয়েছে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে। ইকবালের কারুণে এই ওয়ার্ডে বিএনপি ডুবেছে বলে জানিয়েছে বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা।

ওদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর ইকবাল স্বঘোষিত সম্রাট বনে যায় ২নং ওয়ার্ডে। ইকবাল ও তার বাহিনীর হামলা-ভাচুর-দখলবাণিজ্য ও মামলা বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিনের সরাসরি শেল্টারে ইকবাল বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠলেও গিয়াস উদ্দিনের কারণে তার কিছুই হয়নি। তবে সাইনবোর্ড এলাকায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে বিএনপি থেকে বহিস্কার হয় ইকবাল। কিন্তু দল ইকবালকে বহিস্কার করলেও দলের হাইকমান্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গিয়াস উদ্দিন ইকবালকে তার সাথে সাথে বিএনপির কর্মসুচিতে রেখেছে।

এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীকে মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও গিয়াসউদ্দিন পরোয়া করেনি। যদিও শেষ পর্যন্ত গিয়াসউদ্দিকেও বিএনপি দল থেকে বের করে দিয়েছে।
 

সম্পর্কিত বিষয়: