বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফতুল্লা থানা যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে অসহায় ও দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়।
বুধবার বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানার রেলস্টেশন এলাকায় ফতুল্লা থানা যুবদল ও ছাত্রদল দলের উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং অসহায়-দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার।
প্রধান বক্তা হিসেবে রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মুফতি মনির হোসেন কাশেমী কে মনোয়ন দিয়েছেন। মনির হোসেন কাশেমীকে আমরা ১২ ফেব্রুয়ারী সংসদ নির্বাচনে খেজুর গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে জনাব তারেক রহমানকে এ আসনটি উপহার দিবো।
তিনি নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনের অপর প্রার্থীদের ইঙ্গিত করে বলেন,আজকে যারা নির্যাতিত বলছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই জিয়া পরিবার থেকে এ দেশে কোন পরিবার বা কেউ নির্যাতিত নয়। সেই পরিবার থেকেই তাকে মনোয়ন দিয়েছেন। আজকে যারা ভাইয়ের রাজনীতি করেন তারাই তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করছেন।
নারায়ণগঞ্জে দুটি ভিআইপি আসন(নারায়ণগঞ্জ-৩ও৪) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন একজন। যাকে বিএনপি একটি আসন থেকেও মনোয়ন দেননি। তিনি দুটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন। আপনি নিজেকে কি বুজাতে চাইছেন।
অপর এক স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন,যিনি আন্দোলনে ছিলেন না। নেতা-কর্মীদের কোন খোঁজ খবর নেননি। আমরা ভেবেছিলাম ৫ আগস্টের পর তিনি মাঠে নামবেন। ৫ আগস্টের পর তিনি বলেন ছেলের বিয়ের পর মাঠে নামবেন তারপর বললেন ঈদের পর নামবেন। তাও নামলেন না।
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সে মাঠে নামলেন বিএনপি নেতা-কর্মী বিহীন। বিএনপিও তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত কে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।এখন তারা বিএনপির নাম ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা করছেন। যারা ভাইয়ের রাজনীতি বা ব্যক্তির রাজনীতি করেন তারাই তাদের সাথে রয়েছে।
স্কাইপে তারেক রহমান সাহেব বলেছিলেন, উনিতো(শাহ আলম) আমার দল করেনা। তারপর ও আপনি ভন্ডামি করে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন করার কথা বলে নেতাকর্মীদের নিজ বলয়ে টেনে নেন। কিন্ত বিএন আপনাকে মনোয়ন দেয়নি।
তিনি আরো বলেন,যারা স্বতন্ত্র এবং কিংস পার্টি থেকে নির্বাচন করছেন তারা আগামী ২০ তারিখের মধ্যে মনির হোসেন কাশেমীর সাথে যোগাযোগ করে তাকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করেন। যদি সমর্থন না ও দেন এই ৪ আসন থেকে মনির হোসন কাশেমী জয় লাভ করবে ইনশ আল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, এ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য মুত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কারো সাথে আপোষ করেননি।
তিনি নিজ ও নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করতেন তাহলে তাকে জেল খাটতে হতোনা, উন্নত চিকিৎসার জন্য সে বিদেশে গমন করতে পারতো। অনেক সুবিধা ভোগ করতে পারতেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এই নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়েছেন। যারা জিয়া পরিবারকে ভালোবাসে যারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব কে বিশ্বাস করে তারা কখনোই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধাচরন করবেনা। মনির হোসাইন কাশেমী ২০১৮ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোয়ন পেয়ে ধানের শীষের প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেন।
এবারো তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোয়োন পেয়েছেন। তিনি হলেন তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী; বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। শুধু মাত্র আইনি জটিলতার কারনে এবার সে খেজুর গাছ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
আপনাদের বুজতে হবে ধানের শীষই এখন খেজুর গাছ আর খেজুর গাছই ধানের শীষ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে আপনারা মনির হোসেন কাশেমী কে বিজয়ী করে তারেক রহমান কে উপহার দিবেন।
ফতুল্লা থানা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাগর সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি তাইজুল ইসলাম আল-আমিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ফতুল্লা থানা কৃষক দলের আহবয়াক জুয়েল আরমান, ফতুল্লা থানা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আব্দুল খালেক টিপু, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাকির হোসেন রবিন,ফতুল্লা থানা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আল আমিন,যুগ্ম আহবায়ক মোঃ ইব্রাহিম, ফতুল্লা ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা অরুন, ফতুল্লা থানা তাতি দলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার,সাধারণ সম্পাদক মীর ইমন।


































