রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সহকারী (পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) পরিচয় দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলমকে ফোন করে তিনটি বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। তবে ফোনকারী নিজের পরিচয়ের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
ওসি মাহবুব আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারজাহান সরকারকে ফতুল্লার ভুইগড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওই দিন রাত ১২টার দিকে ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে (০১৩৩৭৫৯৬১৩৪) একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তার শারজাহান সরকারকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ওসি জানান, ফোনকারীকে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এবং একাধিক মামলার আসামি। এরপরও তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওসি ফোনকারীকে প্রশ্ন করেন, তার গ্রামের বাড়ি কোথায়? জবাবে ফোনকারী টাঙ্গাইলের কথা জানান। তখন ওসি বলেন, রাষ্ট্রপতির বাড়ি তো ঠাকুরগাঁওয়ে। এরপর পরিচয়ের সত্যতা যাচাই করতে ফোনকারীকে ভিডিও কলে কথা বলার অনুরোধ করেন। কিন্তু এরপর ওই ব্যক্তি আর ভিডিও কল করেননি, এমনকি কথাও বলেননি।
ওসি আরও জানান, শুরু থেকেই তার সন্দেহ হয়েছিল যে, কেউ ভুয়া পরিচয় দিয়ে ফোন করেছেন। তাই তিনি বিষয়টি বুঝে-শুনেই কথা বলেছেন। যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল, কলার টিউনে সেখানে ছবি ও নাম হিসেবে ‘জোনায়েত হোম কিপার’ ভেসে ওঠে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার শারজাহান সরকার (৫৫) ফতুল্লা মডেল থানার পশ্চিম ভুইগড় এলাকার মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক বৈষম্যবিরোধী মামলা রয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। বুধবার এলাকায় তার অবস্থানের খবর পেয়ে ভুইগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


































