আপনি কি জানেন—ভুল ইফতার আর ভুল সেহরি আপনার সারাদিনের রোজাকে খুব কষ্টকর করে তুলতে পারে?
গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা— এসবের পেছনে বেশিরভাগ সময় কারণ থাকে খাবারের ভুল পছন্দ।
জেনে নিন সহজভাবে— ইফতার ও সেহরিতে কী খাওয়া উচিত, আর কী খাওয়া উচিত নয়।
ইফতার শুরু করবেন যেভাবে
দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর আমাদের পাকস্থলী খুব সংবেদনশীল থাকে। এই সময় হঠাৎ করে ভারী খাবার খেলে সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই ইফতার শুরু করুন— এক থেকে তিনটা খেজুর দিয়ে, আর সঙ্গে স্বাভাবিক মাত্রার পানি। খেজুর শরীরে দ্রুত শক্তি দেয়, আর পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে। চাইলে লেবু মেশানো হালকা পানি খেতে পারেন, কিন্তু চিনি দেবেন না। খুব বেশি ইচ্ছে করলে সামান্য চিনি যোগ করতে পারেন; তবে না করাই ভাল
ইফতারিতে যেসব খাবার কম খাবেন বা এড়িয়ে চলবেন
ইফতারের সময় সবচেয়ে বড় ভুলটা আমরা করি কী জানেন?
একসাথে অনেক ভাজাপোড়া খেয়ে ফেলি। পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, সমুচা— একেবারে বাদ দিতে বলছি না, কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক না।
আরেকটা বড় ভুল— ফ্রিজের ঠান্ডা পানি, সরবত বা সফট ড্রিংক; এগুলো খেলে হঠাৎ করে পাকস্থলীতে শক লাগে, ফলে গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা আর পেট ফাঁপার সমস্যা হয়।
ইফতারের পর মূল খাবার কেমন হবে
ইফতার করার ১৫–২০ মিনিট পর, যখন শরীর একটু স্বাভাবিক হবে,তখন মূল খাবার খাবেন। হালকা ভাত বা রুটি,ডাল,সবজি,মাছ, মাংস। চাইলে অল্প টক দই খেতে পারেন—এটা হজমে সাহায্য করে।
আরেকটি কথা- ইফতারির শুরুতে ফল খাওয়া জরুরি না। আপেল, কমলা, আঙুর,তরমুজ— এগুলো না খাওয়াই ভালো। কারন দীর্ঘ সময় রোজার পর পাকস্থলী সংবেদনশীল থাকে। তখন ফলের ফাইবার ও অ্যাসিড একসাথে ঢুকলে— গ্যাস, পেট ফাঁপা, বুকজ্বালা হতে পারে।
তাহলে ফল খাবেন কখন?
ইফতারের ৩০–৬০ মিনিট পরে এই সময় ফল খেলে— হজম ভালো হয়, ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। কয়েকটি ভাল ফলের নাম বলে দিচ্ছি— পেঁপে,আপেল, কলা, কমলা, নাশপাতি।
এবার আসি সেহরির কথায়
অনেকেই ভাবেন,সেহরি না খেলেও চলবে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ভুল সেহরি বা সেহরি বাদ দেওয়া—দুটোই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সেহরি এমন হতে হবে, যে খাবার ধীরে হজম হয় আর সারাদিন শক্তি জোগায়।
আদর্শ সেহরিতে কী রাখবেন
ভাত বা আটার রুটি, ডাল, ডিম বা মাছ,মাংস,পর্যাপ্ত সবজি,দই,একটা ফল—যেমন কলা বা আপেল।আর অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি। এই ধরনের খাবার খেলে দিনভর ক্ষুধা কম লাগে,দুর্বলতা হয় না, আর পানিশূন্যতাও কম হয়।
সেহরিতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
খুব বেশি ঝাল খাবেন না, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার নয়, ভাজাপোড়া নয়। চা বা কফি বেশি খাবেন না, কারণ এগুলো শরীর থেকে পানি বের করে দেয়। ফলে সারাদিন পিপাসা লাগে আর ক্লান্তি আসে।
আরেকটি বিষয় জেনে রাখুন- সেহরিতে ফল খাওয়া খুবই উপকারী।
বিশেষ করে কলা, আপেল, পেঁপে এগুলো ধীরে হজম হয়, সারাদিন শক্তি দেয়, আর পিপাসাও কম লাগে।
⚠️ কিছু সতর্কতা ও গুরুত্বপূর্ণ টিপস মনে রাখা খুবই জরুরী-
১। খুব বেশি ফল একসাথে খাবেন না
২। ফলের সাথে সাথে পানি বেশি খাবেন না
৩। ডায়াবেটিস থাকলে ফলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করবেন
৪। একসাথে অনেক পরিমানে খাবেন না।
৫। ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে চিবিয়ে খাবেন।
৬। পানি একবারে বেশি পরিমানে পান করবেন না—অল্প অল্প করে পান করুন।
৭। যাদের গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস, বা উচ্চ রক্তচাপ আছে— তারা খাবারের ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকবেন।
সর্বশেষ কথা
রোজা মানে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া, আর সুস্থ থাকার একটা সুযোগ। সঠিক ইফতার আর সঠিক সেহরি আপনার রোজাকে করবে সহজ, সুস্থ আর শক্তিতে ভরপুর।
লেখক:
ডা. গাজী খায়রুজ্জামান
(ডি এইচ এম এস)
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও
স্বাস্থ্য বিষয়ক কলামিস্ট ।
মোবাইল: ০১৭৪৩৮৩৪৮১৬



































