বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর)। প্রতিষ্ঠার ৫১ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে ইউনিটের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আজীবন সদস্যরা। এ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নারায়ণগঞ্জে।
১৯৭৫ সালে নারায়ণগঞ্জে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ৫১ বছর পর এবারই প্রথম ভোটের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন ৯৯৭ জন। ভোটারদের নিজ নিজ ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ভোটদানের চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকায় নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একজন ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ছয়টি পদে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে সেক্রেটারি পদে একজন এবং সদস্য পদে পাঁচজন নির্বাচিত হবেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে ইউনিটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সেক্রেটারি পদে লড়াই দুই প্রার্থীর
সেক্রেটারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং আইনজীবী ফোরামের সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান।
অন্যদিকে পাঁচটি সদস্য পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ বারের সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির, সিনিয়র আইনজীবী জাকির হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খান খোরশেদ, এনসিপি নেতা নিরব রায়হান, নাজমুল হক (নির্দলীয়) ও হারুনুর রশীদ খান।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যাপক প্রস্তুতি
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নির্বাচন পরিচালনা, আচরণবিধি ও ভোটগ্রহণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রার্থীরাও উৎসবমুখর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। তাই এই নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
তিনি জানান, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য এবং রেড ক্রিসেন্টের শতাধিক যুব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, এনডিএ চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক মামুন মাহমুদ আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা সেসব নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের ৫১ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ভোটের মাধ্যমে কমিটি হচ্ছে। আমরা ভোটের পক্ষে। ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। আমরা একটি ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। আশা করি, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করে প্রার্থী ও ভোটাররা ইতিহাস রচনার অংশ হবেন।’
নির্বাচন কমিশনের অন্য চার সদস্য হলেন অধ্যাপক বদরুন্নাহার, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাবুল, সোহেল আক্তার সোহান ও অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাধন। কমিশনের সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের লিডার মাহমুদা মুন্সি।


































