বন্দরে তাওহীদ হত্যাকান্ডের ১০ দিন পর অবশেষে প্রধান আসামী রহিম (২৫) আদালতে আত্মসমর্পণ করার খবর পাওয়া গেছে ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারী) সকালে বিজ্ঞ আদালতে সে আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণকারি রহিম বন্দর থানার ২৪ নং ওয়ার্ড আমিরাবাদ বালুর মাঠ এলাকার মান্নান মিয়ার ছিলে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী) রাতে ১১টার পর যে কোন সময়ে বন্দর থানার আমিরাবাদস্থ কফিল উদ্দিন মিয়ার বালুর মাঠস্থ কাঁশবনে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।
এ ব্যাপারে নিহতের পিতা আল মামুন বাদী হয়ে গত রোববার (১১ জানুয়ারী) রাতে ৩ জনের নাম উল্লেখ্যসহ আরো ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বন্দর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১৩(১)২৬ ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০।
মামলার বাদী ও বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যা ৭টায় বন্দর থানার আমিরাবাদ এলাকার আল মামুন মিয়ার ছেলে তাওহীদ একই এলাকার মৃত শাহাআলম মিয়ার ছেলে ৩নং বিবাদী মোহাম্মদের চায়ের দোকানে চা পান করতে এসে তার সাথে বাকবিতন্ড হয়।
উক্ত বাকবিতন্ডের জের ধরে একই রাত ৮টায় ৩নং বিবাদী মোহাম্মদ মামলার বাদীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার ছেলে তাওহীদকে হত্যা করার হুমকি প্রদান করে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী) বিকেল ৩টায় বাদীর ছেলে তাওহীদ তাদের আত্মীয় আমিরাবাদ এলাকার নেকবর মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যায়।
বাদী ছেলে তাওহীদ বেড়াতে যাওয়ার খবর পেয়ে আমিরাবাদ বালুর মাঠ এলাকার আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে ১নং বিবাদী রহিম রাত ১১টায় থেকে সোয়া ১১টায় বাদীর আত্মীয় নেকবর মিয়ার বাড়ীতে এসে জরুরী কথা আছে বলে বাদীর ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর ১নং বিবাদী রহিম বাদী আত্মীয় নেকবরের বাসায় এসে পুনরায় জানায় তাওহীদ বাসায় চলে গেছে।
আপনারা ঘুমিয়ে পরেন। পরবর্তীতে বিবাদী রহিম ও আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকার মৃত শাহআলম মিয়ার ছেলে ইমন ও চা দোকানী মোহাম্মদসহ অজ্ঞাত নামা আসামীরা বাদী ছেলে তাওহীদকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করেছে ভিডিও ফুটেজে লক্ষ্য করা যায়।
প্রতিদিনের ন্যায় গত শুক্রবার বিকাল ৪টায় আমিরাবাদ কফিল উদ্দিনের বালুর মাঠে বাচ্চারা ফুটবল খেলতে যায়। ফুটবল খেলার এক পর্যায় একটি বল মাঠের উত্তর পশ্চিম কোনায় গিয়ে পরে। পরবর্তীতে উক্ত স্থান থেকে একজন বাচ্চা ফুটবল আনতে গেলে সেখানে একটি গলাকাটা পুরুষ লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসীকে জানায়।
পরে স্থানীয়রা থানায় সংবাদ জানালে বন্দর থানার উপ পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিকসহ সঙ্গীয় ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।
বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশ্রাফ উদ্দিন জানান, মামলার ১ নং বিবাদী সোমবার আদালতে আত্মসমাপন করেছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে।


































