নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চৌরাপাড়া সোমবারিয়া বাজার খাল পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা, পরিবেশ বিপর্যয় ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত প্রায় দুই দশক ধরে খালটি দখল করে গোডাউন ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এ জন্য তারা সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল (সাবেক আদর্শ কটন অ্যান্ড স্পিনিং মিল) কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিল চৌরাপাড়া সোমবারিয়া বাজার খালটি। ব্রিটিশ আমল থেকেই এটি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। একসময় এ খাল দিয়ে বড় বড় রপ্তানি নৌকা সোমবারিয়া হাটে প্রবেশ করত বলেও জানান তারা।
তাদের দাবি, ২০০৪ সালের দিকে খালটির একটি বড় অংশ দখল ও ভরাট করে সীমানাপ্রাচীর এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এতে ধীরে ধীরে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চৌরাপাড়া, লক্ষণখোলা, সোমবারিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। পাশাপাশি খালের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় মশার উপদ্রবসহ নানা ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা অবিলম্বে খালের সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ গোডাউন ও স্থাপনা অপসারণ, খালটি পুনঃখনন এবং শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
এ জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী খালটি পুনরুদ্ধার করা গেলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, অন্যদিকে এলাকার পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।


































